প্লাস্টিক দূষণ কমাতে উৎপাদনকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার তাগিদ এসেছে একটি সেমিনার থেকে। একই সঙ্গে এ খাতে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) যৌথভাবে এর আয়োজন করে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পোদ্যোক্তা ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সেমিনারে উৎপাদকের বর্ধিত দায়িত্ব বা ইপিআর (পণ্য ব্যবহারের পর তৈরি হওয়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনকারীর দায়িত্ব), সম্পদ সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য নকশা নিয়ে আলোচনা হয়। প্লাস্টিক খাতে এসব উদ্যোগ কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়েও মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার এ বছরের আগস্টে উৎপাদনকারীদের একটি নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়। এ জন্য ‘উৎপাদনকারীর বর্ধিত দায়িত্ব বা ইপিআর-২০২৬’ নামের একটি নির্দেশিকা তৈরি করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রানসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিডোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মাসুদ ইকবাল মো. শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।
ইপিআর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা
সেমিনারের কারিগরি অধিবেশনে ইপিআর নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রকল্পের জাতীয় বিশেষজ্ঞ মাকসুদ সিনহা একটি উপস্থাপনা দেন।
পরে সরকারি সংস্থা, নরওয়ের দূতাবাস, বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। ইপিআর কার্যকর করতে সরকার, উৎপাদক ও অন্যান্য অংশীজনের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা মতবিনিময় করেন।
দিনের পরের অধিবেশনগুলোতে শিল্পকারখানায় সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং বর্জ্য কমানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। আকিজ প্লাস্টিকস, এক্সোপ্লাস্ট ও আরএফএল গ্রুপের টেল প্লাস্টিকের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা জানান।
পণ্যের কারণে পরিবেশের ওপর প্রভাব কমাতে নকশা পর্যায়ে কী ধরনের পরিবর্তন আনা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে এসিআই প্রিমিও প্লাস্টিক, প্রাণ-আরএফএল ও স্কয়ার টয়লেট্রিজের প্রতিনিধিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সেমিনারটি ‘বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার ও সামুদ্রিক বর্জ্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিডো ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এতে অর্থায়ন করছে ঢাকায় অবস্থিত রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস।