সে সময় সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়, কোচ ও সহকারীদের হাতে এক লাখ করে টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। বাকি টাকার চেক তুলে দেওয়া হয় বাফুফের সভাপতি সভাপতি কাজী সালাউদ্দীন ও ফেডারেশনের নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তারের হাতে।

এই তহবিলে অনুদান দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, হা-মীম গ্রুপ, এনভয় গ্রুপ, ইউনাইটেড গ্রুপ, সিটি ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, আকিজ গ্রুপ, জিপিএইচ ইস্পাত, ইউএস-বাংলা গ্রুপ, রেক্স লিমিটেড, হাতিল ফার্নিচার, নারী উদ্যোক্তা কণা রেজা, ট্রান্সকম লিমিটেড ও প্রথম আলো।

৪ নভেম্বর ছিল প্রথম আলোর ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত প্রীতিসম্মলনীতে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, বিদেশি কূটনীতিক, পদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নারীনেত্রী, চিকিৎসক, আইনজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। প্রথম আলো ‘সত্যে তথ্যে ২৪’ আহ্বান নিয়ে ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে।

প্রীতিসম্মলনীতে নারী ফুটবল দলকে নিয়ে প্রথম আলোর উদ্যোগে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র ‘সে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে’ দেখানো হয়। কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে সাফের ফাইনালে সাবিনা খাতুনদের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার দৃশ্যটা আসতেই অতিথিরা করতালি দিয়ে ওঠেন। প্রামাণ্যচিত্র দেখানোর পর মঞ্চে আসেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক। তাঁর অনুরোধে মঞ্চে ওঠেন সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী দলের ২৩ ফুটবলার এবং কোচ ও সহকারীরা। তাঁদের সম্মাননা জানানো হয়।

আনিসুল হক বলেন, প্রথম আলোর সাংবাদিকেরা অনুসন্ধান করে জেনেছেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী ফুটবলের উন্নয়নের জন্য তহবিল সমস্যা রয়েছে। নারী ফুটবলারদের ক্যাম্পে রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়া, দেশে-বিদেশে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিপুল অঙ্কের তহবিল প্রয়োজন। এ জন্য প্রথম আলোর উদ্যোগে তহবিল গঠন করা হয়েছে।

তহবিল গঠনে সহযোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ, আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেখ বশির উদ্দিন, ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী পরিচালক কুতুব উদ্দিন আকসার রশীদ, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, এক্সিম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, রেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এন এম খান মুরাদ, হাতিল ফার্নিচারের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান, নারী উদ্যোক্তা কণা রেজা ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানকে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।

মঞ্চে ডাকা হয় বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দীন ও ফেডারেশনের নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তারকেও। তাঁদের হাতে চেক তুলে দেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

কাজী সালাউদ্দীন বলেন, ‘শিরোপাজয়ী মেয়েদের নিয়ে এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমরা গর্বিত, আনন্দিত। পরিকল্পনা করে তহবিল গঠন করায় প্রথম আলোকে ধন্যবাদ।’

এত বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানান মাহফুজা আক্তার। তিনি বলেন, প্রথম আলো এ দেশের এক নম্বর পত্রিকা। তারা মেয়েদের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছে, এটা অনেক বড় কিছু।

নারী ফুটবল দলকে নিয়ে প্রথম আলোর প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন রেদওয়ান রনি। প্রামাণ্যচিত্রে উঠে আসে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী মেয়েদের লড়াইয়ের কথা, ভারত সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কলসিন্দুরের কথা। কলসিন্দুর গ্রামের আটজন মেয়ে খেলেছেন এবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে। নানা দিক থেকে পিছিয়ে থাকা এই মেয়েদের এগিয়ে নিতে ভূমিকা ছিল প্রথম আলোর। সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নারী ফুটবল দলে খেলা ৮ জনসহ ২৫ জনকে বৃত্তি দেওয়া হতো প্রথম আলোর পক্ষ থেকে।

অনুষ্ঠানে এসে ভীষণ উচ্ছ্বসিত জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ‘প্রথম আলো সব সময় মেয়েদের ইতিবাচক সবকিছুর সঙ্গে আছে। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমন সম্মাননা পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে। পরের প্রজন্মের মেয়েরা এগিয়ে আসছে, আমরা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’

আনিসুল হকও সাবিনার কথায় সুর মেলান। তিনি বলেন, এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক। বাংলাদেশের জয় হবেই।