তাহেরা খাতুনের দোতলা বাড়ি। স্বামী, ছেলে, ছেলের বউসহ ওই বাড়িতে তাঁরা চার থেকে পাঁচজন থাকেন। শুধু তাঁদের বাড়ি নয়, তাঁদের গলিতে ওয়াসার পানি যাচ্ছে না।

ওই গলিতে থাকা অন্য বাড়ির বাসিন্দাদের কয়েকজন গভীর নলকূপ দিয়ে ওয়াসার পানি তোলেন। তবে তাহেরা খাতুনের বাসায় গভীর নলকূপ নেই। তাই অন্যদের কাছ থেকে পানি কিনে চলতে হচ্ছে তাঁকে।

শিক্ষক তাহেরা খাতুন বলেন, সম্প্রতি ওয়াসার মড-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইফতেখার উল্লাহ তাঁর এলাকা সরেজমিনে দেখে গেছেন। কিন্তু সমাধান আসেনি।
ওয়াসা থেকে বৈধভাবে পানির লাইন নিয়েছেন তাহেরা খাতুন। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেন। তাহেরা খাতুনের এলাকায় সপ্তাহে তিন দিন ওয়াসার পানি যেত। দুই মাস আগেও পানি পেতেন। এরপর পানি আসা বন্ধ হয়ে যায়। এখন কখনো এক জগ, আবার কখনো এক বালতি করে হঠাৎ হঠাৎ পানি আসে।

যে গলিতে তাহেরা খাতুনের বাসা সেখানে আরও ৭ থেকে ১০ পরিবার থাকে। কয়েকজনের বাসায় গভীর নলকূপ রয়েছে। সেখান থেকে এক ঘণ্টায় ২০০ টাকা দিয়ে পানি কিনে ব্যবহার করছেন। কিন্তু এভাবে প্রতিদিন পানি কেনার সামর্থ্য তাঁর নেই।

শুধু বিশ্বকলোনি বি ব্লক নয়, নগরের আরও বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট প্রকট হচ্ছে। মূলত গভীর নলকূপের মাধ্যমে সরবরাহ করা পানির উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে, বলছে ওয়াসা।

ওয়াসার বিভিন্ন মডের কয়েকজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার চারটি মডে প্রায় ৫০টি গভীর নলকূপ চালু রয়েছে। এর মধ্যে মড-১-এর অধীনে ১০টি, মড-২-এ ৮টি, মড-৩-এ ২৫টি ও মড-৪-এ আছে ৮টি গভীর নলকূপ। এসব নলকূপ থেকে প্রতিদিন সাড়ে তিন থেকে চার কোটি লিটার পানি পাওয়া যায়।

প্রকৌশলীরা আরও বলছেন, বিশ্বকলোনিতে মড-১-এর গভীর নলকূপ থেকে পানি সরবরাহ করা হয়। লোডশেডিংয়ের কারণে নলকূপ থেকে ঠিকমতো পানি উত্তোলন করা যাচ্ছে না। এখন কমবেশি ৩ কোটি লিটার পানি উৎপাদিত হচ্ছে।

অবশ্য ওয়াসা বলছে, সব মিলিয়ে বর্তমানে তারা দৈনিক প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-১ ও ২ থেকে আসে ১৪ লিটার করে ২৮ কোটি লিটার, শেখ রাসেল পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার। আর গভীর নলকূপ থেকে আসে ৪ কোটি লিটার পানি। আর এসবের মধ্যে দৈনিক প্রায় ১৫ কোটি লিটার পানি গ্রাহকের কাছে পৌঁছায় না। নথিতে দেখা যায় ওয়াসা বিষয়টি সিস্টেম লস বা কারিগরি ত্রুটি হিসেবে দেখায়।

মড-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইফতেখার উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বকলোনি বি ব্লকের ওই এলাকার পানি নিচে নেমে গেছে। সমাধানের জন্য কাজ চলছে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ইফতেখার উল্লাহ আরও বলছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে কয়েক ঘণ্টা নলকূপ থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি শীতের মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানি আরও নিচে নিমে যায়। এসব কারণে পানির উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তবে লোডশেডিং কমে এলে পানির উত্তোলন বাড়বে।