তিন নারীকে বিদেশে যেতে বাধা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত নয়: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট ভবনফাইল ছবি

তিন নারীকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় শুধু অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ বা অনুরূপ লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—এ বিষয়েও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।

তিন নারীর করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রুলসহ আদেশ দেন। বিদেশযাত্রায় বাধার প্রেক্ষাপটে রিট আবেদনকারীদের পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বরাবরে যে অভিযোগ করেছিলেন, তা নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিদেশযাত্রায় কেন বাধা দেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বরাবরে গত ৩০ আগস্ট রিট আবেদনকারীরা ওই অভিযোগটি করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। লিখিত অভিযোগ করে ফল না পেয়ে তিন নারী রিটটি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান, তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।

রিট আবেদনকারীরা প্রাপ্তবয়স্ক উল্লেখ করে আইনজীবী ইশরাত হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন ও বিমান টিকিট থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া হয়। তাঁদের (তিন নারী) কাছে জানতে চাওয়া হয় যে তাঁদের বাসায় জানে কি না, বাসায় ফোন করতে বলে এবং তারা ফোনও করেন। এ–ও বলে যে তাঁরা অবিবাহিত এবং নিজেরা–নিজেরা যাচ্ছেন—মূলত এ ধরনের হয়রানি। এ ধরনের আচরণ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সমতা ও লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী নিশ্চয়তা, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের চলাফেরার স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।’

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে আবেদনকারীদের অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে প্রতিবেদন দাখিল করতে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী ইশরাত হাসান। তিনি বলেন, ‘তাঁদের (রিট আবেদনকারীদের) পরবর্তী বিদেশযাত্রায় যথাযথ কাগজাদি থাকলে বাধা না দিতেও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

রিট আবেদনকারীদের ভাষ্য, তাঁদের বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তাঁদের বিমানবন্দর থেকে যেতে দেওয়া হয়নি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত কি না, বাবা-মা বা অভিভাবক সঙ্গে আছেন কি না—এসব কোনো নাগরিকের বৈধ বিদেশযাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বতন্ত্র আইনগত ভিত্তি হতে পারে না বলেও উল্লেখ করেছেন তাঁরা।