রিকশাচালক আবদুল হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, রোববার বিকেলে নগরের ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে এক যাত্রী তাঁর রিকশায় ওঠেন। ওই যাত্রী লালখান বাজারে নেমে যান। তখন ৩০ বছর বয়সী ওই যাত্রী ভাড়া না দিয়ে চলে যান।

পরে রিকশায় একটি চিরকুট দেখতে পান হান্নান। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘আমাদের ছেলেগুলোকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে ভুল করেছ তুমি আবদুল হান্নান। তোমাকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। নইলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।’

বিষয়টি আবদুল হান্নান ফোন করে ৯৯৯–এ জানান। পরে তাঁর সঙ্গে খুলশী থানা পুলিশ যোগাযোগ করে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা রাতে প্রথম আলোকে বলেন, রিকশাচালক আবদুল হান্নানকে হুমকির ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

গত ১৭ জুলাই রাত দুইটার দিকে ২৮ বছর বয়সী এক নারী নগরের ঝাউতলায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে রিকশায় করে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার নিজ বাসায় ফিরছিলেন। রাস্তায় গাড়ি ও লোকজনের সংখ্যাও কম ছিল। রিকশাটি জিইসি বাটা গলি এলাকায় উড়ালসড়কের নিচে পৌঁছালে গতিরোধ করা হয়। পরে ওই তরুণীকে রিকশা থেকে নামিয়ে কাছের একটি টংদোকানের পাশে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছয় যুবক।

ওই তরুণীকে বহনকারী রিকশার চালক মো. রাকিবকে চলে যেতে বলেন যুবকেরা। বিষয়টি তিনি একটু দূরে গিয়ে আরেক রিকশাচালক আবদুল হান্নানকে জানান। পুরো ঘটনা জানার পর পরে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন। ১৫ মিনিট পর খুলশী থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের পাশে এসে তাঁকে ফোন করে। তিনি নগরের খুলশী থানার জিইসি বাটা গলি এলাকায় আখতারুজ্জামান চৌধুরী উড়ালসড়কের নিচে টংদোকানের ঠিকানা দেন পুলিশকে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফারুক হোসেন, আবদুর রহমান ও মো. আরিফ নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। বাকি তিনজন পালিয়ে যায়। পরদিন রাতে সাইফুল ইসলাম, আবদুল খালেক ও মোহাম্মদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে খুলশী থানায় ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন