৭১–বিরোধী শক্তি নারীর অর্জন মুছে ফেলতে চাইছে: মহিলা পরিষদ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্রমাগত নারীর প্রতি অবমাননাকর, অসম্মানজনক ও অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এগুলো নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল হলেও নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ’৭১-বিরোধী শক্তি পরাক্রমশালী হয়ে নারীর অর্জনকে মুছে ফেলতে চাইছে।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ কথা বলেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ও নারী ইস্যুতে অগ্রহণযোগ্য বক্তব্যের প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-নারী-পুরুষনির্বিশেষে বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারের আচরণবিধি থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো প্রচারকাজে সহিংসতাকে সূক্ষ্মভাবে ব্যবহার করছে। প্রচারে নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল হলেও নির্বাচন কমিশনের কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।
মহিলা পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বিভেদ, তাঁদের চলাফেরা, আচরণ, পোশাক নয় বরং নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলির ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও নারীর প্রতি নির্যাতন বন্ধে নেতৃত্বদানকারীরা কী পদক্ষেপ নেবেন, তা–ও দেখা হবে।
মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ক্রমাগত নারীর প্রতি অবমাননাকর, অসম্মানজনক ও অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। ৭১-বিরোধী শক্তি পরাক্রমশালী হয়ে নারীর অর্জনকে মুছে ফেলতে চাইছে। তারা নারীকে কেবল গৃহবন্দী করা নয়, নারীর অগ্রযাত্রাকে মুছে ফেলার চিন্তা করছে। নারীর অধিকার, মর্যাদা, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অগ্রহণযোগ্য ও অসাংবিধানিক বক্তব্য দিচ্ছে। নারীকে তারা ভোগের বস্তু হিসেবে দেখে, অধস্তন করতে চায়। নারীবিদ্বেষী গোষ্ঠীর সব রকম অপকৌশল রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, মাসুদা রেহানা, লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা, ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনূস প্রমুখ। এ ছাড়া ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ, গ্রীণভয়েজ বহ্নিশিখার প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ, সম্পাদকমণ্ডলি ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাব থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে নারীর প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার বন্ধ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়।