শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেছেন, ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশকে উগ্র দেখানোর চেষ্টা চলছে। তবে শিল্পকলা একাডেমির কাজ দেখলেই তা মিথ্যা প্রমাণ হয়ে যাবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে ডিসেম্বরজুড়ে ঢাকাসহ জেলা-উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে। এ বিষয়ে জানাতে বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে এমন একটি চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, যেন বাংলাদেশে সংস্কৃতিচর্চার কিছু হয় না। অথচ জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পর শুধু শিল্পকলা একাডেমির কাজ প্রমাণ করতে পারে যে ভারত বাংলাদেশ নিয়ে কতটা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
শিল্পকলার মহাপরিচালক জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৮টি অনুষ্ঠান হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিভাগীয় পর্যায়ে একযোগে জাতীয় যন্ত্রসংগীত উৎসব, কাওয়ালি মাহফিল, অভ্যুত্থানের গান, ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স, ‘আদিবাসী’ সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আঁকা গ্রাফিতিকে উপজীব্য করে ‘জুলাই ২০২৪’ শীর্ষক নকশিকাঁথা তৈরির কর্মশালা।
এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আলোকচিত্র প্রশিক্ষণ, পাক্ষিক বাহাস সিরিজ, সাধুমেলা, বটতলা, দেশনাটক, বাতিঘর ও বিবর্তন নাট্য প্রদর্শনী হবে বলে জানান জামিল আহমেদ। তিনি বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জেলায় জেলায় জাতীয় নাট্যকর্মশালা, ভাওয়াইয়া গানের অনুষ্ঠান, প্রাচ্যনাটের নাটক প্রদর্শনী, লোকসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হবে। পাঁচ জেলায় আর্ট লাইব্রেরি পরিবর্ধন, অপেরার নাট্যপ্রদর্শনীসহ নতুন ওয়েব জার্নাল প্রকাশ করবে শিল্পকলা একাডেমি। উদ্বোধন করা হবে ভিআর বা ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি গ্যালারি।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই জুলাই-আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর শিল্পকলা একাডেমি সংস্কৃতিচর্চার যে কাজগুলো করেছে, সেসব উপস্থাপন করা হয়। শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকেরা তাঁদের কাজ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। সেমিনার ছাড়া শিল্পকলা একাডেমির অধিকাংশ আয়োজন উন্মুক্ত স্থানে করতে চান বলে জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিল্পকলার মহাপরিচালক বলেন, ‘শিল্পকলা কোনো কালোতালিকা করেনি। শিল্পকলা চায় সবার অংশগ্রহণ। কিন্তু যারা জুলাই অভ্যুত্থানকে সমর্থন করেনি, তাদের কারও কারও প্রতি মানুষের ঘৃণা রয়েছে।’
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে বিবৃতি দেওয়ার কথাও অনেকে ভোলেননি উল্লেখ করে জামিল আহমেদ বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে তাঁরা সামনে এলে রোষের মুখে পড়তে পারেন এবং অপ্রীতিকর অবস্থা হতে পারে। তাই তাঁদের আপাতত কিছুটা আড়ালে থাকতে অনুরোধ করা হয়েছিল।’ এ সময় তিনি সম্প্রতি ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের মঞ্চায়নের সময় ঘটে যাওয়া শিল্পকলায় হামলার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।