খালাসের পরও আট বছর কারাগারে, ইব্রাহিমকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন নয়
খালাসের রায় হওয়ার পরও প্রায় আট বছর কারাগারে থাকার পরে মুক্তি পাওয়া ইব্রাহিম আলী শেখকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকার্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ রুল দেন।
এর আগে ‘জেল থেকে মুক্তি পাইছি জীবনডা ফেরত পাই নাই’ শিরোনামে গত জুলাই মাসে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের ভাষ্য, পৃথক দুটি মামলায় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ইব্রাহিম শেখকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। তবে রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছাতে আরও আট বছর লেগে যায়। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে থাকতে হয়।
ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে খালাসের আদেশ পাঠানোয় বিলম্বের বিষয়টি তদন্ত চেয়ে ও ইব্রাহিম শেখকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে সংগঠনটির মহাসচিব আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক গত সপ্তাহে রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হাসান শহীদ কামরুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার ও মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক।
পরে আইনজীবী হাসান শহীদ কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, হত্যা মামলায় ২০১৭ সালের ২০ জুলাই এবং অপর একটি ফৌজদারি মামলায় ১৯ জুলাই ইব্রাহিম শেখকে বেসকুসর খালাস দেন হাইকোর্ট। কিন্তু এই আদেশ কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ২০২৫ সালে পৌঁছায়। খালাসের পর কোনো অপরাধ ছাড়াই দীর্ঘ আট বছর তাঁকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। এতে ইব্রাহিম শেখের মৌলিক অধিকার ও জীবনের ক্ষতি হয়েছে। এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবহেলা–গাফিলতি তদন্ত এবং ইব্রাহিমের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পূর্নবাসনের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়। খালাস পাওয়ার পরও আট বছর কারাগারে থাকার কারণে ইব্রাহিম শেখকে কেন পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন আদালত।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ইব্রাহিম আলী শেখ নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরি করতেন বলে জানান রিট আবেদনকারী আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ২০০৩ সালে রাতে পাহারা শেষে সকালে ঘরে ফেরার পথে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অসচ্ছলতার কারণে তিনি আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি। হত্যা মামলায় দায়রা আদালত ইব্রাহিম শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আর ফৌজদারি অপরাধের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। হত্যা মামলায় পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য না থাকায় ২০১৭ সালের ২০ জুলাই হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন। অপর মামলায়ও যাবজ্জীবন সাজা থেকে খালাস পান। কিন্তু তদবিরের অভাবে খালাসের আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে আট বছর সময় লাগে।
খালাস পাওয়ার পরও ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইব্রাহিম শেখকে কারাগারে থাকতে হয় বলে জানান গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। তিনি বলেন, কারাবাসের সময় তাঁর স্ত্রীও অন্যত্র চলে যান। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার কারণে ইব্রাহিম শেখ শারীরিক–মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইব্রাহিম শেখের জন্য পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পুর্নবাসন, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে রিটটি করা হয়।