সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন ভাতা বাড়ল, কোন ভাতা কমল

দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে সরকার। এতে কোন গ্রেডের বেতন কত হবে, তার হিসাব দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে বেতন নির্ধারণের বিধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধার হারও পরিবর্তন করা হয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়স থেকে অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) শেষ হওয়া পর্যন্ত মাসে ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।

বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে দেড় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পান।

নতুন বেতনকাঠামোয় অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা বয়স অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা এবং অন্যরা দেড় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পান।

এ ছাড়া চিকিৎসা ভাতার বিষয়ে সময়–সময় সরকারের জারি করা আদেশের মাধ্যমে দেওয়া সুবিধা বলবৎ থাকবে।

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন। পুরোনো বেতনকাঠামোয় তাঁরা মাসে ২০০ টাকা টিফিন ভাতা পান।

তবে যেসব কর্মচারী তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে দুপুরের খাবার (লাঞ্চ) ভাতা অথবা বিনা মূল্যে দুপুরের খাবার পেয়ে থাকেন, তাঁরা টিফিন ভাতা পাবেন না।

নতুন নিয়মে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা সিটি করপোরেশন এলাকায় চাকরি করলে মাসে ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পাবেন। বর্তমানে এ ভাতার পরিমাণ ৩০০ টাকা।

যেসব সরকারি চাকরিজীবীর জন্য ধোলাই ভাতা প্রযোজ্য, তাঁরা মাসে ৩০০ টাকা এই ভাতা পাবেন। বর্তমানে এ ভাতার পরিমাণ ১০০ টাকা।

পার্বত্য জেলাগুলোর জেলা সদর ও সদর উপজেলায় নিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাহাড়ি ভাতা পাবেন। বর্তমানে এর সর্বোচ্চ পরিমাণ তিন হাজার টাকা।

অন্যান্য উপজেলার জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা পাহাড়ি ভাতা পাবেন তাঁরা। বর্তমানে এ ভাতার সর্বোচ্চ পরিমাণ ৫ হাজার টাকা।

কমল বাংলা নববর্ষ ভাতা

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। এত দিন তাঁরা ২০ শতাংশ হারে নববর্ষ ভাতা পেয়ে আসছেন।

বাড়ল মোবাইল ভাতার আওতা

ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এত দিন শুধু পঞ্চম গ্রেডের তদূর্ধ্ব কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা প্রযোজ্য ছিল। নতুন বেতন স্কেলে সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পঞ্চম গ্রেড ও তার ওপরের গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন।

চাকরিজীবীরা প্রতিবন্ধী সন্তানপ্রতি ৩ হাজার টাকা হারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) সন্তান ভাতা পাবেন। তবে এ সুবিধা অনধিক দুই সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

বাড়িভাড়া কোন এলাকায় কত

নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। এলাকা ও গ্রেডভেদে বাড়িভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। অন্যান্য গ্রেডের ক্ষেত্রে তা ৫০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকায় গ্রেড অনুযায়ী ৫০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এবং অন্যান্য এলাকায় গ্রেড অনুযায়ী ৪৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন।

বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৫ হাজার ৬০০ টাকা বাড়িভাড়া পান চাকরিজীবীরা। ৯ হাজার ৭০১ টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল বেতন হলে ৬০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা বাড়িভাড়া পাওয়া যায়। মূল বেতন ১৬ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৫৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা বাড়িভাড়া পাওয়া যায়। আর মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি হলে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া পাওয়া যায়। অন্যান্য এলাকায়ও ভিন্নতা আছে।

আবার কিছু ভাতা আগের মতোই রাখা হয়েছে। যেমন শিক্ষাসহায়তা ভাতা।

ভাতা কবে থেকে কার্যকর

নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত বেতনের ৪০ শতাংশ প্রাপ্ত বেতনের সঙ্গে যোগ করে পাবেন। আর ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা পাবেন ৫০ শতাংশ। এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ায় বকেয়া বেতনও পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এখনকার মতোই ভাতা পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরপর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সব ভাতা পাবেন তাঁরা।