জামিন করিয়ে দিতে কোটি টাকা চাওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদন এপ্রিলেই: চিফ প্রসিকিউটর
জামিন করিয়ে দিতে কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি চলতি এপ্রিল মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। ট্রাইব্যুনালে নিজ দপ্তরে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। এ বিষয়ে গত ১০ মার্চ প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ যৌথভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ওই দিনই ওই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছিল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। এক কোটি টাকা চাওয়াসহ ট্রাইব্যুনালের একাধিক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের এই কমিটি।
জিয়াউলের মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষীর জবানবন্দি
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন ভুলু বেগম। ট্রাইব্যুনাল–১–এ দেওয়া জবানবন্দিতে ভুলু (৫২) বলেন, তিনি রাজধানীর স্বামীবাগের বাসিন্দা। বাসাবাড়িতে কাজ করেন তিনি।
জবানবন্দিতে ভুলু বেগম বলেন, তাঁর দুই ছেলে। বড় ছেলে আজাদ, ছোট ছেলে সজল। ২০১১ সালে জুলাই মাসে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার বেগমগঞ্জে দুই ছেলে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ওই বছরের ৪ জুলাই দুপুরে বাসা থেকে ছোট ছেলে সজল (১৭) মোবাইলে কথা বলতে বলতে বেরিয়ে যায়। এরপর সজল আর ফেরেনি। পরে একই বছরের ১৩ জুলাই তাঁরা খবর পান গাজীপুরে একটি হাসপাতালে দুটি লাশ পড়ে আছে। পরে তাঁর বড় ছেলে আজাদ হাসপাতালে গিয়ে সজলের লাশ দেখতে পান।
ভুলু বেগম আরও বলেন, সজল বিএনপির রাজনীতি করত। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, রাজনীতি করার কারণে র্যাবের বড় অফিসার তাঁর ছেলেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। তিনি ছেলের হত্যার বিচার চান।
জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি। আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় ভুলু বেগম বলেন, সজলের বিএনপিতে কোনো পদ–পদবি ছিল কি না, তা তিনি জানেন না। স্থানীয় মহল্লাবাসী কওয়া–বলা করায় তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলে রাজনীতি করত বিধায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সজলের লাশের মুখ দেখেছেন। সজলের দেহের কোথায় কোথায় ক্ষতচিহ্ন ছিল, তা দেখেননি এবং শরীরের কোথায় ক্ষতচিহ্ন ছিল, সে সম্পর্কে কেউ তাঁকে বলেননি।
জিয়াউল আহসান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে। শুনানিতে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ইনুর মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু
গণ–অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল–২–এ বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
হাসানুল হকের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালের কাছে এই মামলা পুনঃ তদন্তের আবেদন করেন। পুনঃ তদন্তের আবেদনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এর মধ্যে রয়েছে তদন্ত করা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও তাঁর দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা এবং চাপ ও হুমকির মাধ্যমে ইনুকে ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য উপস্থাপনে সাবেক চিফ প্রসিকিউটরের বাধা দেওয়া প্রভৃতি।
তবে মামলা পুনঃ তদন্তের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
এই মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।