পুরোনো আইনে ফিরলে আস্থা ফিরবে না

মো. নূর খান

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে গুমের সংজ্ঞায়ন, অপরাধ নিরসন, গুমের ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের বিষয়গুলো ছিল। এ জন্য আইনটি পাস করা জরুরি ছিল। তবে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পাস না হলে অধ্যাদেশটি অকার্যকর হয়ে যাবে। সরকার যদিও নতুন করে এই অধ্যাদেশ নিয়ে বিল উত্থাপন করবে বলছে, তবে কতটা গুরুত্ব পাবে, তা অনিশ্চিত।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার গুমের মাধ্যমে যে ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল, সংখ্যাগত দিক থেকে যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ছিল বিএনপি। সে সময় বিএনপিও গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারবিষয়ক অধ্যাদেশ যখন আইনে পরিণত করার সুযোগ এল, তখন এটি ল্যাপস (অকার্যকর) হতে যাচ্ছে। এই অধ্যাদেশের পরিমার্জিত রূপ চিন্তা করা গেলে; এটি ভবিষ্যতে আইনে পরিণত হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীদের শঙ্কা কেটে যেত। একটা আইনে দুর্বলতা থাকলে কেউ না কেউ সুবিধা পায়। এই অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হলে বা আইন হলেও দুর্বলতা থাকলে কোনো না কোনো মহল এর সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

মানবাধিকার কমিশনের কথা বলতে গেলে এই কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে, কার্যকর ভূমিকা রাখবে—তার একটি আভাস ছিল নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোর মাধ্যমে বিগত দিনের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ ছিল। যদিও এ অধ্যাদেশ মানবাধিকার নিশ্চিতে যথেষ্ট নয়, মানবাধিকারকর্মীদের এমন অভিযোগ ছিল। এরপরও সবাই ধারণা করেছিল, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিগত দিনের চেয়ে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব। কিন্তু এখন সেটাও অকার্যকর হতে যাচ্ছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংযোজন–বিয়োজনের মধ্য দিয়ে এই অধ্যাদেশকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তা না করে এটি বাতিল করা হলে দেশ পুরোনো আইনে ফিরে যাবে। স্বস্তির জায়গা থাকবে না, মানুষের আস্থার অভাব থেকে যাবে।

নতুন অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে একটি কাঠামো ছিল। বিগত দিনে মানবাধিকার কমিশনের সিদ্ধান্তে সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ ছিল। ভবিষ্যতে মানবাধিকার কমিশন মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে একধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা কেমন হবে, তা–ও নিশ্চিত নয়। আবার সরকার যদি নতুন করে এই অধ্যাদেশ নিয়ে বিল উত্থাপন করে; সেখানে ঘাটতি বা দুর্বলতা থাকলে কার্যকর অর্থে স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে না। 

মো. নূর খান সদস্য, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন