চারটি প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই স্কোর নির্ধারণ করা হয়। বাসিন্দারা নিজ এলাকায় রাতে একা হাঁটতে নিরাপদ বোধ করেন কি না, স্থানীয় পুলিশে আস্থা আছে কি না, চুরি, হামলা কিংবা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন কি না।

নিজ এলাকায় রাতে একা হাঁটতে নিরাপদ বোধ করেন কি না, এমন প্রশ্নে প্রতি ১০ জনের ৭ জনই (৭১ শতাংশ) বলেছেন, তাঁরা নিরাপদ বোধ করেন। স্থানীয় পুলিশে আস্থা আছে বলে জানিয়েছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭০ শতাংশ।

প্রায় ১১ শতাংশ বলেছেন, গত বছর তাঁদের নিজের কিংবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের সম্পত্তি চুরি হয়েছে। হামলা কিংবা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ ও ২০২১ সালের পরিসংখ্যানে তেমন বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। রাতে একা হাঁটতে নিরাপদ বোধ করা এবং পুলিশে আস্থার বিষয়ে জরিপে গ্যালাপ ক্রমশ যে উন্নতি দেখতে পেয়েছিল, ২০২১ সালে এসে সেটা স্থবির হয়ে গিয়েছিল। দুটি ক্ষেত্রেই ১ পয়েন্ট করে অবনমন হয়েছে। তবে দুটি সূচকই আগের অধিকাংশ বছরগুলোর চেয়ে ওপরেই রয়েছে।

অন্যান্য পরিসংখ্যানও বিগত বছরগুলোরই কাছাকাছি রয়েছে। ২০২১ সালে যত শতাংশ মানুষ তাঁদের সম্পত্তি চুরি হওয়ার কথা জানিয়েছেন, তা আগের বছরের চেয়ে ২ পয়েন্ট কম। ২০২০ সালে ১৩ শতাংশ মানুষ সম্পত্তি চুরি হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। হামলা ও ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার পরিসংখ্যান অপরিবর্তিত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা সূচকে ৯৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আছে সিঙ্গাপুর। এরপর যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম হয়েছে তাজিকিস্তান, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া। শীর্ষে ১০–এ থাকা দেশগুলোর স্কোর ৯৬ থেকে ৯১ পয়েন্ট।

মাত্র ৫১ স্কোর নিয়ে সূচকে সবচেয়ে খারাপ করেছে আফগানিস্তান। তলানিতে থাকা ১১টি দেশের ৯টিই আফ্রিকা মহাদেশের। অপর দেশটি লাতিন আমেরিকার ভেনেজুয়েলা। তলানির দেশগুলোর স্কোর ৫১ থেকে ৬৩ পয়েন্ট।

নিজ এলাকায় রাতে নিরাপদে হাঁটতে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করেন সিঙ্গাপুরের বাসিন্দারা (৯৫ শতাংশ)। আর সবচেয়ে কম নিরাপদ বোধ করেন আফগানিস্তানের লোকজন (২২ শতাংশ)।

দক্ষিণ এশিয়ায় পুলিশের ওপর আস্থার সূচক ৩ পয়েন্ট কমেছে। স্কোর ৭৭ পয়েন্ট থেকে কমে গত বছর ৭৪ পয়েন্টে নেমে গিয়েছিল। সবচেয়ে বেশি ৭ পয়েন্ট কমেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়।