তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়: চীন

সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন। বেইজিং, চীন। ২৬ জুন ২০২৬ছবি: সেন্টার ফর কনফ্লিক্ট রেজোল্যুশনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও থেকে নেওয়া।

বাংলাদেশের তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। এমনকি এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বেইজিং। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনায় দেশটির সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা স্পষ্ট করেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম নদীভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প হলো বাংলাদেশের ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (টিআরসিএমআরপি)। সম্প্রতি চীন এই প্রকল্পে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাসও দিয়েছে তারা।

গত শুক্রবার বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেন। এই প্রশ্নোত্তর চীনের ইরান দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

গুয়ো জিয়াকুন বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা করতে চীন প্রস্তুত। আর তিস্তা নদী প্রকল্পটি আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, আমাদের এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই।’

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন এমন একটি প্রকল্প, যা মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বাংলাদেশ পক্ষ এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। চীন তার সাধ্যমতো এই প্রকল্পে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় তিস্তা নদী নিয়ে এ আলোচনা হয়। সফরকালে তাঁকে আতিথেয়তা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। এ ছাড়া তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।