ময়মনসিংহের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান (শুভ্র) হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামির মধ্যে আছেন বিএনপি নেতা ও উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান। গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং মেয়রের দুই সহোদারসহ মোট ৯ জন আসামি খালাস পেয়েছেন।
আজ সোমবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মনির কামাল এ রায় দেন।
প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মাহবুবুর রহমান।
২ বছর আগে ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর মাসুদুর রহমানকে গৌরীপুর মধ্যবাজার পান মহালে রাতে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মাসুদুর রহমানের ছোট ভাই আবিদুর রহমান বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। গত বছরের ২৭ এপ্রিল এ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। আর গত ২৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।
মামলার বাদী মাসুদরের ছোট ভাই আবিদুর রহমান আজ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, এ রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। এ রায়ের বিপক্ষে তিনি আপিল কারবেন। আবিদুরের দাবি, রিয়াদুজ্জামান বিএনপির রাজনীতি করেন। মেয়রের নির্দেশ না থাকলেও তিনি মাসুদুরকে হত্যা করার সাহস পেতেন না।
গত ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর রাতে গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্য বাজার এলাকায় মাসুদুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন বিএনপি মনোনীত গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামানসহ আসামিরা। নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ ছিল গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে মাসুদুরকে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তির ভাই আবিদুর রহমান বাদী হয়ে মেয়র, মেয়রের দুই ভাইসহ মোট ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন গৌরীপুর থানায়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করে। তদেন্তর পর ওই ১৯ আসামির নামে অদালতে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি।
নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ ছিল মাসুদুর ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এ কারণে মেয়রের নির্দেশে তাঁকে হত্যা করা হয়।
তবে মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বরাবরই এ হত্যাকাণ্ডে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন।
মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছে রিয়াদুজ্জামান, গৌরীপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমেদ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোজ্জামেল হক, খায়রুল ইসলাম, মাঈন উদ্দিন, রুহুল আমিন ও শরীফুল ইসলাম।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন রিয়াদুজ্জামানের ভাই মাসুদ পারভেজ ওরফে কার্জন, ছাত্রদল কর্মী শরীয়তউল্লাহ ও যুবদল কর্মী রাসেল মিয়া। এ মামলায় খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, মেয়রের ভাই সৈয়দ তৌফিকুল ইসলাম ও সৈয়দ মাজহারুল ইসলামসহ মোট নয়জন।
গৌরীপুরের চাঞ্চল্যকর এ হত্যারকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মধ্যবাজার পান মহাল এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসা ছিলেন মাসুদুর রহমান। ওই দিন হাটবার হওয়ায় চারপাশে অনেক মানুষ ছিল। ওই সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে দুবৃর্ত্তরা এসে মাসুদুরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। অস্ত্রধারী ওই দুবৃর্ত্তদের মধ্যে রিয়াদুজ্জামানকে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মাসুদুর হত্যার পর দিন বিক্ষুব্ধ মানুষ গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামের বাড়িতে আগুন দেয়।
মাসুদুর হত্যার ২০২১ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় গৌরীপুর পৌরসভার নির্বাচন। ওই নির্বাচনে সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। তবে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়র হন।