পুলিশের স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, চিফ প্রসিকিউটর বললেন, সুপারিশ করবেন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকোলাজ: বাসস

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর কাছে ফোন করে টাকা চেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার প্রশ্ন করা হয় চিফ প্রসিকিউটরকে। সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে না পারলেও সুপারিশ করতে পারবেন বলে জানান প্রসিকিউটর।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার ব্রিফিং করেন চিফ প্রসিকিউটর। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সংস্থার কেউ যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, সেই জায়গায় তিনি (চিফ প্রসিকিউটর) সরাসরি হস্তক্ষেপ না করতে পারলেও সুপারিশ করতে পারবেন। যদি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিংয়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আসতে হয়, নিয়ে আসবেন।

ব্রিফিংয়ে বেসরকারি টিভি চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের সাংবাদিক মাসউদুর রহমান প্রশ্ন করেন, ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটিতে আপনারা তদন্ত করছেন, বিশেষ করে প্রসিকিউশন এবং এখানকার বিষয়গুলো নিয়ে। কিন্তু আমার কাছে একটা অডিও আছে সেখানে একজন...কো–অর্ডিনেটর; উনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে টাকার কথা বললেন যে টাকা ছাড়া এটা সমাধান হবে না। আপনি চাইলে আমি এটা প্রোভাইড (অডিওটি) করতে পারি। সে ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তারা যেভাবে আসামি রাখা, বাদ দেওয়া; তাদের ক্ষেত্রে তারা যে বিষয়গুলো করেছে; যেই পাপে আপনি প্রসিকিউটরকে পুড়াইলেন, সেই একই পাপে আপনি তদন্ত কর্মকর্তার কাউকে ধরতে পারছেন না। তাদের তদন্ত আসলে কে করবে? সেই তদন্ত সংস্থার যে অন্যায়, সেটা তদন্ত কে করবে?’

এর জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আমার প্রসিকিউশন টিমের আমি যেমন প্রধান, আমি কিন্তু ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিরও মানুষ। আমি কিন্তু ইনভেস্টিগেশনেরও পার্ট। তো আপনি এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে আমার কোনো তদন্তকারী কর্মকর্তা কেউ যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন; সেই জায়গায় আমি সরাসরি হস্তক্ষেপ না করতে পারলেও আমি সুপারিশ করতে পারব। অতএব আমাদের এই টোটাল যে কর্মযজ্ঞ; তদন্ত, বিচার—সবকিছুর মধ্যে সেটা আমি আপনাকে খুব পরিষ্কার করেই বলি...।’

এরপর মাসউদুর রহমান বলেন, ‘আমি সরাসরি নামটাই বলে দিই।’

তখন চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘নামটা আমরা এখন নিচ্ছি না আপনার কাছ থেকে। তদন্তের স্বার্থে এটা আপনার কাছে গোপনই থাকুক। আপনি আমাকে পারসোনালি দেন।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘কেউ যদি এ রকম থাকে, অবশ্যই আপনাদের কাছ থেকে আমরা গোপনে, আমাদের এই তথ্যগুলো আমাদের দেন। আমরা সবকিছু যদি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিংয়ের মধ্যে এগুলো নিয়ে আসতে হয়, আমরা নিয়ে আসব।’

চিফ প্রসিকিউটরকে আরেকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আপনি বলেছিলেন, এপ্রিল মাসের মধ্যে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। এ বিষয়ে অগ্রগতি কী?’

এর জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কার্যক্রম চলছে। তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এখন হজে আছেন। তাদের (প্রসিকিউশন) অনেকগুলো বিষয়ে সেই ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আছেন। সেই ব্যক্তি হজ থেকে আসার পর এ বিষয়ে জানাতে পারবেন।’

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। বিষয়টি নিয়ে ১০ মার্চ প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ একটি যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ ছাড়া প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামিমের কক্ষে একজন আসামির স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে গিয়েছিলেন এবং ওই আসামি রাজসাক্ষী হিসেবে মামলায় খালাস পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন আরেকজন প্রসিকিউটর।

এসব ঘটনাসহ কয়েকজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ১০ মার্চ ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়।