বালু দিয়ে নদী ভরাট: প্রাণ-আরএফএলের দুই ব্যবস্থাপকসহ ৪ জনের কারাদণ্ড
বালু দিয়ে নদী ভরাটের দায়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুই ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) মো. ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে তিন বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে বালু বহনের কাজ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সোহা মেসার্স মদিনার পথের মালিক মুক্তার হোসেন ও নাজমুল আলম নাহিদকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর মুক্তার হোসেন ও নাজমুল আলমকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঢাকার চারপাশে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল, দূষণ ও মৃতপ্রায় নদীগুলোকে রক্ষায় হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে বেশ কয়েকবার বালু নদীতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় টঙ্গী নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন খিলক্ষেত থানার পাতিরা মৌজায় ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর বালু নদী পরিদর্শনে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিআইডব্লিউটিএ। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষ থেকে বালু নদীর তীরভূমি ও নদীতে সাড়ে ১২ হাজার বর্গফুট ভরাট করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পারেন, আসামিরা বালু দিয়ে নদী ভরাট করেছেন। এ ঘটনায় গাজীপুরের টঙ্গী নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম খিলক্ষেত থানায় মামলাটি করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন ২০২২ সালের ৩১ মে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। পরে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।