হাম ও জলাতঙ্কের টিকার মজুত ও সরবরাহের অবস্থা জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ

হাইকোর্টফাইল ছবি

সারা দেশে হাম ও জলাতঙ্কের টিকার বর্তমান প্রাপ্যতা–পর্যাপ্ততা এবং মজুত ও সরবরাহের অবস্থা সম্পর্কে জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। হলফনামা আকারে ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

রুলে হামের প্রাদুর্ভাবে মারা যাওয়া শিশুদের প্রত্যেকের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে। দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ১০ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির।

হাম নির্মূলে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার পথে হঠাৎ এ বছর রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। গত তিন মাসে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫০টির বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত হামের রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টিকাদান ব্যাহত হওয়া এ প্রাদুর্ভাবের কারণ বলে বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন।

এরই মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব এবং হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ৩৫২ শিশুর মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে ১০ মে ওই রিট করা হয়। রিটের ওপর গতকাল ও আজ শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির, তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ, মো. কাউছার ও মো. মাকসুদুর রহমান।

চাইল্ড হেলথ ট্র্যাজেডি: তদন্ত কমিশন গঠন কেন নয়

এদিকে হামের প্রাদুর্ভাবে ‘চাইল্ড হেলথ ট্র্যাজেডি’ (শিশুস্বাস্থ্যে বিপর্যয়) বিষয়ে তদন্তে ১৯৫৬ সালের কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্টের বিধান অনুসারে একটি ইনকোয়ারি কমিশন (তদন্ত কমিশন) গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। অপর এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল দেওয়া হয়।

এর আগে হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণপ্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম, বিলম্ব ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফলে দেশজুড়ে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দায় নিরূপণে ১৯৫৬ সালের কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্টের ৩ ধারার অধীন একটি তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে ১৭ মে এই রিট করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম আবেদনকারী হয়ে রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। উভয় রিটের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ ও মো. জসিদুল ইসলাম জনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম।