আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ঐক্য পরিষদের প্রথম জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িকতা আমাদের প্রত্যেকের রক্তে থাকা দরকার। কারণ, এই দেশ দাঁড়িয়ে আছে ৩০ লাখ মানুষের রক্তের ওপর। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা এ দেশের জন্য রক্ত দিয়ে গেছেন। সে দেশকে অন্তর্ভুক্তিমূলক না করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ও আদর্শ ব্যর্থ হয়ে যাবে।’

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নিমচন্দ্র ভৌমিক। সাংবিধানিক সম–অধিকার, সমমর্যাদা, সুযোগের সমতার লড়াই অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংসদে আমাদের প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে, কিন্তু আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব চাই।’

সবশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের সংখ্যা ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আরেক সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, আজকে সমাজের যে দুরবস্থা, তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে ছাত্র যুব সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘দেশে নির্বাচন এলেই ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণের নানা কৌশল তৈরি হয়। ইতিমধ্যে অনেকের মধ্যে নানা আতঙ্ক আছে। এসব মোকাবিলার জন্য আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় বলেন, ‘সংবিধানে একটি ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছে। আমরা বারবার বঞ্চিত হচ্ছি। নিগৃহীত হচ্ছি। নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত হচ্ছি।’ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই এই হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সৃষ্টি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পরিষদের অঙ্গসংগঠন ছাত্র ঐক্য পরিষদের কীভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হবে, তা ব্যাখ্যা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মিলন কান্তি দত্ত, বাংলাদেশ ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি রেমন্ড আরেং প্রমুখ। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কাজল কুমার দাস ও সঞ্চালনা করেন শিপন বাড়াইক।