তেল, পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ, সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব থেকে আমরা মুক্ত নই। কারও এক ইঞ্চি জমিও যেন খালি না থাকে। যে যা পারেন উৎপাদন করেন। নিজের জমিতে ফসল ফলান। কেননা, সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের নিজেদের খাদ্যের সংস্থান নিজেরা করতে পারলে বিশ্বব্যাপী চলমান দুর্ভোগের আঁচ বাংলাদেশে লাগবে না।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছি। আমাদের যা প্রয়োজন, তার থেকে বেশি উৎপাদন করছি। তারপরও আমরা আপৎকালীন খাদ্য সব সময় মজুত রাখি। যেন আমার দেশের মানুষের কোনো কষ্ট না হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। চোখে দেখে না আমাদের দেশের কিছু মানুষ। তাদের কিছুই ভালো লাগে না। এই গণতান্ত্রিক সরকার তাদের ভালো লাগবে না। অগণতান্ত্রিক কিছু হলে তাদের মূল্যটা বাড়ে। এটাই তারা ভাবে। বাংলাদেশে সেই খেলাই খেলতে চায় তারা।’

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর একটানা গণতান্ত্রিক ধারা আছে বলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সে কারণেই বিশ্বে বাংলাদেশ আবার সেই মর্যাদা পেয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের নাম শুনলে মনে করত, দুর্ভিক্ষ, ঝড় ও দরিদ্র। এভাবেই দেখত। এখন তো সেই ছোট চোখে আর বাংলাদেশকে দেখতে পারে না!  কারণ, আমরা বিজয়ী জাতি। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করেই চলব আমরা। সেটিই করছি।’

সভায় রিজার্ভ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের কল্যাণেই তাঁর সরকার রিজার্ভের অর্থ খরচ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অতীতের ঋণের সুদও গুনতে হয় বড় অঙ্কের। তাঁর সরকার কখনো ঋণখেলাপি হয়নি বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখনো যে রিজার্ভ রয়েছে তা দিয়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব। এটি তিন মাসের থাকলেই যথেষ্ট।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আট বিলিয়ন ডলার আমরা আলাদাভাবে বিনিয়োগ করেছি। আধুনিক বিমান ক্রয় করেছি। এটা আমাদের রিজার্ভের টাকা দিয়েই করেছি। অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার নেইনি। কারণ, ধার নিলেও সে টাকা সুদসহ শোধ করতে হতো। সেই টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিমান নিয়েছে এবং ২ শতাংশ সুদে আবার ফেরত দিচ্ছে। ফলে দেশের টাকা দেশে থাকছে। রপ্তানি ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেওয়ায় টাকা খরচ হচ্ছে। এতে আমাদের দেশের লোকই লাভবান হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে প্রকৃত গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক অধিকার এ দেশের মানুষের ছিল না বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করি। নির্বাচনে যতটুকু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে, সেটি কিন্তু আমাদের (আওয়ামী লীগ) আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল।’

বিএনপির আমলে নির্বাচনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াতকে নিয়ে সরকার গঠন করার পর থেকে দেশে হত্যা, খুন, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং—এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেনি।

সে সময়ের নির্বাচনের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কথাই ছিল, ১০টা হোন্ডা (মোটরসাইকেল), ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা। অবশ্য তাদের মুখে এখন খুব গণতন্ত্রের কথা শোনা যায়। তারা নাকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে।’