সহযোগ প্রেরণা বৃত্তি
‘মুখস্থনির্ভর পরীক্ষাপদ্ধতিতে তথাকথিত মেধা যাচাইয়ের যে প্রক্রিয়া, তা বিভ্রান্তিকর’
মুখস্থনির্ভর পরীক্ষাপদ্ধতিতে তথাকথিত মেধা যাচাইয়ের যে প্রক্রিয়া, তা বিভ্রান্তিকর। প্রতিটি শিশু তার নিজের মতো করে সম্ভাবনাময়। পাঠ্যবইকেন্দ্রিক শিক্ষা এবং পাস-ফেল বা ভালো ফলাফল দিয়ে আসলে সব সময় এই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত ও বিকশিত করা যায় না। নিজের চারপাশ, সেখানকার মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে যোগ না থাকলে মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ হওয়া যায় না। এই লক্ষ্য নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের আর কে স্টেট উচ্চবিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ‘সহযোগ প্রেরণা বৃত্তি’ প্রদান করেছে সৃজনশীল সংগঠন ‘সহযোগ’। সেখানে সংগঠনটির উদ্যোক্তারা এ কথা বলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের আর কে স্টেট উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাবি আক্তার ও নবম শ্রেণির সোনিয়া আক্তারকে এই বিশেষ বৃত্তি প্রদান করা হয়। গত রোববার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দুই শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ীদের হাতে বৃত্তির সনদ, বই ও বৃত্তির নির্ধারিত অর্থ তুলে দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম এবং সহযোগের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক দীপ্তি দত্ত।
বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে সহযোগের তিন সদস্য দীপ্তি দত্ত, কবি ও শিল্পী তোফায়েল আহমেদ পদ্ম এবং লেখক ও সাংবাদিক ফজলুল কবির দিনব্যাপী নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই আয়োজনে স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা করেন শিল্পী ও শিল্প শিক্ষক আশরাফুল আলম এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম।
রোববার সকালে স্কুলের অ্যাসেম্বলি থেকে শুরু হয় দিনব্যাপী ‘নিজের গল্প বলি’ কার্যক্রম। এতে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির মোট ৪৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের লেখা ও আঁকা ছবি দিয়ে একটি দেয়ালিকা তৈরি করা হয়। পুরো আয়োজনে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির নাট্যদলের ছয়জন সদস্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দিনভর সহযোগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সহযোগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাঠ্যবইয়ের পাস-ফেল দিয়ে শিশুর সুপ্ত সম্ভাবনা সব সময় যাচাই করা সম্ভব নয়। তাই তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দিনব্যাপী সরাসরি কাজ করে এই দুজনকে নির্বাচিত করেছেন। তবে এই বৃত্তি কেবল একবারের জন্য নয়। নির্বাচিত দুই শিক্ষার্থীকে তাদের নিজ অঞ্চল, মানুষ ও প্রকৃতি সংলগ্ন হয়ে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করতে হবে। সেসব কাজের বিনিময়ে তারা এই প্রেরণা বৃত্তি পাবে।