ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপির আরও চার প্রার্থীর আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনে ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপির চার প্রার্থীর করা পৃথক চারটি নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন।
আবেদনকারী চারজন হলেন কুড়িগ্রাম–২ আসনে বিএনপির মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, রংপুর-৪ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৬ আসনে বিএনপির মো. সাইফুল ইসলাম এবং রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দীন।
নির্বাচনসংক্রান্ত আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানির জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। ওই একক বেঞ্চের আজকের কার্যতালিকায় চারটি নির্বাচনী আবেদন মোশন (নতুন মামলা) হিসেবে ছিল। আদালতে কুড়িগ্রামের একটি ও রংপুরের দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী মো. আজিজুর রহমান দুলু ও রাজশাহীর একটি আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী মো. মোক্তাদির রহমান শুনানিতে ছিলেন।
কুড়িগ্রাম–২ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আতিকুর রহমান মোজাহিদ ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৫ ভোট পান।
রংপুর-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট পান। আর রংপুর-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. নুরুল আমীন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. সাইফুল ইসলাম ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট পান।
বিএনপির ওই তিন প্রার্থীর আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু প্রথম আলোকে বলেন, ভোটে কারচুপির অভিযোগে এনে আসন তিনটির ভোট যাচাই করা ও পুনরায় ভোট গণনা চেয়ে বিএনপির তিন প্রার্থী পৃথক তিনটি আবেদন করেন। আবেদন তিনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৬ মে শুনানির জন্য দিন রেখেছেন। নির্বাচন কমিশনকে আসন তিনটির ব্যালট পেপার থেকে শুরু করে নির্বাচনী সামগ্রী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজশাহী–১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দীন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট পান।
এই আসনে ভোটে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিএনপির প্রার্থী শরীফ উদ্দীন নির্বাচনী আবেদনটি করেছেন বলে জানান তাঁর আইনজীবী মোক্তাদির রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনী আবেদনে বিজয়ী প্রার্থীর ফলাফল বাতিল চাওয়া হয়েছে। আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট আগামী ১৩ মে শুনানির জন্য দিন রেখেছেন। এই আসনের কেন্দ্রগুলোর ব্যালট পেপার, সিসিটিভির ফুটেজসহ নির্বাচনসামগ্রী সংরক্ষণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তিনি হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করতে পারেন।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে শেরপুর-১ আসনে বিএনপির সানসিলা জেবরিন, ঢাকা–৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা–৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. এনায়াত উল্লা ও গাইবান্ধা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুর রহিম সরকার এবং ১ মার্চ রাজশাহী–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডি এম ডি জিয়াউর রহমান ও পাবনা–৪ আসনে বিএনপির হাবিবুবুর রহমান হাবিবের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।