অনুপস্থিত আসামিদের বিচার নিয়ে প্রশ্ন, ট্রাইব্যুনাল বললেন ‘উপায় না দেখালে কথা শুনব না’
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক বা অনুপস্থিত আসামিদের বিচার নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রশ্ন তুলছে বলে যুক্তিতর্কে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম। জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁদের বলা উচিত এসব পলাতক আসামির বিচার কীভাবে করা হবে। তাঁরা পলাতক আসামিদের বিচার করার উপায় দেখাতে না পারলে তাঁদের কথা শোনা হবে না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার যুক্তিতর্কে সোমবার আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গটি তোলেন প্রসিকিউটর মিজানুল। এর জবাব দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ।
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এই মামলার অপর আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। এ মামলার সব আসামিই পলাতক। তাঁদের অনুপস্থিতিতে এই মামলা এখন রায়ের অপেক্ষায় আছে।
এ ছাড়া জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় অনুপস্থিত বা পলাতক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও কয়েকটি মামলায় অনুপস্থিত আসামিদের সাজা হয়েছে।
যুক্তিতর্কে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার করা ন্যায়বিচারে সহায়ক নাকি বাধা, তা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলতে চায়, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারে ন্যায়বিচার অনুপস্থিত। এতে আসামি নিজেকে যথাযথভাবে ডিফেন্ড (আত্মপক্ষ সমর্থন) করতে পারছেন না।
এরপর ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘তাহলে কী ব্যবস্থা আছে বলেন। যদি কোনো ব্যবস্থা থাকে, তাহলে ওই দিকে যাব। না হলে এভাবেই চলবে।’ এরপর বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ বলেন, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারের বিধান ভারতীয় উপমহাদেশের সব দেশেই আছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আছে।
বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ বলেন, রোম স্ট্যাটিউটের (রোম সংবিধি) ৬১ নম্বর ধারায় বলা আছে, অভিযুক্ত স্বেচ্ছায় আসলেন, শুনলেন। পরে যদি অভিযুক্ত না আসেন, আইনজীবীও না দেন, তখন অনুপস্থিতিতে বিচার করা যাবে।
এই বিধান মানতে গেলে অপরাধীদের বিচার হবে না উল্লেখ করে বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে হতাহতদের বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। এরপর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘রাস্তাটা কী? যাঁরা সমালোচনা করেন তাঁদের বলা উচিত, দিস ইজ দ্য ওয়ে আউট (এটা সমাধান বা বিকল্প উপায়)। তাঁরা না দেখাতে পারলে তাঁদের কথা আমরা শুনব না।’