ইউরিয়া সারের ব্যবহার হ্রাস ও ডিএপি সারের ব্যবহার বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিএপি সার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, মানসম্পন্ন ফসল উৎপাদনে কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব। ডিএপি সারে শতকরা ১৮ ভাগ নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সারের উপাদান রয়েছে। সে জন্য ডিএপির ব্যবহার বাড়িয়ে ইউরিয়া সারের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য সরকার ডিএপি সারের মূল্য কমিয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে বিগত কয়েক বছরে ডিএপি সারের ব্যবহার দ্বিগুণ বেড়েছে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ফসলের জমিতে সুষম সার প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য ইউরিয়া সারের বর্তমান ব্যবহার কমপক্ষে ২০ ভাগ কমিয়ে সারের ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে। এতে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বরং উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কৃষকের খরচও কমবে।

বছরে ৩২ লাখ টনের বেশি নন ইউরিয়া সার (টিএসপি, ডিএপি, এমওপি) ব্যবহার হয় বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এসব সারের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে চার গুণ বেড়েছে, কিন্তু আমাদের দেশে দাম বাড়ানো হয়নি। কাজেই ইউরিয়া সারের কেজিতে ছয় টাকা মূল্যবৃদ্ধিতে ফসলের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারি–পরবর্তী পরিস্থিতি ও চলমান রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সারের মূল্য অস্বাভাবিক পরিমাণে বেড়েছে; যা ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ। বর্তমানে প্রতি কেজি ইউরিয়া আমদানির ব্যয় ৮১ টাকা, টিএসপি ১০৮ টাকা, এমওপি ১০৬ টাকা এবং ডিএপিতে ১২৩ টাকা। এর ফলে বর্তমানে ভর্তুকি দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ইউরিয়া ৫৯ টাকা, টিএসপি ৮৬ টাকা, এমওপি ৯১ টাকা এবং ডিএপিতে ১০৭ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে ভর্তুকিতে লেগেছিল ৭ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা, সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে লেগেছে ২৮ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন