চাকরি হারানো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি আনসার সদস্যের করা পৃথক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে হাইকোর্ট তাঁদের পুনর্বহালের নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল ও লিভ টু আপিল করে। পৃথক আপিল ও লিভ টু আপিলের ওপর গত ১৬ জুন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায়ের জন্য ২ আগস্ট দিন রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ রায় দেওয়া হয়।

আজ ক্রম অনুসারে বিষয়টি উঠলে আপিল বিভাগ রায়ের সংক্ষিপ্তসার জানিয়ে দেন। ঘোষিত রায়ে বলা হয়, পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করা হলো।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামাল উল আলম ও কামরুল হক সিদ্দিকী।

অন্যদিকে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী মো. সালাহ উদ্দীন দোলন, মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও অনীক আর হক শুনানি করেন।

পৃথক রিটে আবেদনকারীর সংখ্যা ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি বলে জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. সালাহ উদ্দীন দোলন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রিট আবেদনকারীদের মধ্যে যাঁদের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা রয়েছে, তাঁদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিলেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক আপিল ও লিভ টু আপিল মঞ্জুর হয়নি। পর্যবেক্ষণসহ আপিল ও লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। পর্যবেক্ষণ আনসার সদস্যদের জন্য ইতিবাচক হবে বলে ধারণা করছি। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

আইনজীবীদের তথ্যমতে, আনসারে ১৯৯৪ সালে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অসন্তোষ হয়। পরে তা বিদ্রোহে রূপ নেয়। এ ঘটনায় ২ হাজার ৪৯৬ জন আনসারকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিদ্রোহের ঘটনায় মামলায় পর বিভিন্ন সময় তাঁরা খালাস পান।

পরে ২ হাজার ৬৯৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে কিছুসংখ্যক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে চাকরিতে পুনর্বহাল হন। তবে ২ হাজার ৪৯৬ জন আনসার সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ নিয়ে তাঁরা পৃথক রিট করেন। রিট আবেদনকারীদের মধ্যে সিপাহি, ল্যান্স নায়েক, নায়েক, হাবিলদার, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্লাটুন কমান্ডার ও প্লাটুন কমান্ডার রয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন