বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই প্রার্থীর জয়

লুৎফুর রহমান ও ফরহাদ হোসেন

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহাম কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটসে জয় পেয়েছেন এসপায়ার পার্টির প্রার্থী লুৎফুর রহমান। আর নিউহামে বিজয়ী হয়েছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি লেবার পার্টি থেকে নির্বাচনে লড়েছেন।

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গত বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহাম, বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম, রেডব্রিজসহ ১৩৬ স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই

নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রার্থী হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে নির্বাহী মেয়র পদে ভোট গণনা শুরু হয়।

স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিউহাম কাউন্সিলের নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলে পূর্বাভাস অনুযায়ী জয় পান ফরহাদ হোসেন। তিনি পেয়েছেন মোট ২৫ হাজার ৫৩৮ ভোট। যুক্তরাজ্যের মূলধারার কোনো বড় রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী মেয়র হিসেবে তিনি ইতিহাস গড়লেন।

ফরহাদ হোসেনের নিকটতম প্রার্থী নিউহাম ইনডিপেনডেন্ট পার্টির কামরান মালিক পেয়েছেন ২০ হাজার ২৩৪ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী আরিক চৌধুরী। গ্রিন পার্টির এই প্রার্থী পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯৯৯ ভোট। এই কাউন্সিলে মোট আটজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

টাওয়ার হ্যামলেটসের ফলাফলে ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বর্তমান নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন গ্রিন পার্টির হিরা খান আদেওগান। এই কাউন্সিলে আরও দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীসহ মোট ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ও দলটির নেতা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য উদ্বেগ বাড়ছে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে ডানপন্থী নেতা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করছে। অন্যদিকে লেবার পার্টি তাদের ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও ধাক্কা খাচ্ছে।

গতকাল পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী রিফর্ম ইউকে নাটকীয়ভাবে এগিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রিফর্ম ইউকে ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ কাউন্সিল আসনে জয় পেয়েছে। লেবার পার্টি গত নির্বাচনে জয়ী হওয়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন হারিয়েছে।