আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় আপিলের ওপর শুনানি শেষ, এখন রায়ের জন্য অপেক্ষা
গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল ও লিভ টু আপিলের (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) ওপর শুনানি শেষ হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ সোমবার শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, এখন যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে।
আলোচিত এই মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় দেন। রায়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ৬ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল, আপিল ও বিবিধ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের রায়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি কারাগারে মারা যাওয়ায় তাঁদের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে বলে গণ্য করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর এই রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা নূরুল ইসলাম সরকারসহ দণ্ডিত ব্যক্তিরা আপিল ও লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। অন্যদিকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে।
আপিলের ওপর গত ২৮ জুলাই শুনানি শুরু হয়। আগের ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি শেষ হয়।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, হেলাল উদ্দিন মোল্লা, মোহাম্মদ শিশির মনির, সৈয়দ মিজানুর রহমান ও আইনজীবী শফিউল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ওবায়দুর রহমান।
পরে আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। আজ শুনানি শেষ করে আদালত সিএভি করেছেন, যাকে বলে যেকোনো দিন রায় হবে। তবে আদালত বলেছেন এটি সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটির আগে হবে না। আদালত খোলার পরই রায়ের জন্য দিন নির্ধারিত হবে।
সুপ্রিম কোর্টের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শুরু হচ্ছে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ অবকাশ শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসবেন।
২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শিক্ষক ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি গাজীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।