সাক্ষাৎকার: নিয়াজ আহমদ খান

বেশ কিছু কাজ হয়েছে, ব্যর্থতাও আছে

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। ১৮ মাসে তিনি কী করলেন, কী করতে পারলেন না—এসব নিয়ে কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। জবাব দিয়েছেন নানা অভিযোগেরও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজীব আহমেদতাহমিদ সাকিব

প্রথম আলো:

প্রথম আলো: আপনি পদত্যাগের চিঠি দিলেন কেন?

নিয়াজ আহমদ: আমি এসেছিলাম ক্রান্তিকালে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় পুরো অচল ছিল। আমার কাছে এটি ছিল উদ্ধারকারী মিশন। আমি কখনোই এটিকে চাকরি মনে করিনি। আমার নিয়োগপত্রেও সাময়িক নিয়োগের কথাটি লেখা ছিল। চেষ্টা করেছি, সবাইকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল অবস্থা থেকে একটি পর্যায়ে নিয়ে আসার। এখন বিভিন্ন মাপকাঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে। আমি মনে করেছি, আমার দায়িত্ব শেষ হয়েছে।

প্রথম আলো:

আপনি যখন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের চিঠি দিলেন, তিনি কী বলেছেন?

নিয়াজ আহমদ: এটি ছিল মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয়বার দেখা। তিনি জানতে চেয়েছেন, আমি অব্যাহতি নেওয়ার ব্যাপারে মন পরিবর্তন করেছি কি না। আমি বলেছি, এটা আমার দীর্ঘদিন চিন্তা করেই করেছি। তবে আমি চাই না বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্যতা তৈরি হোক। এ কারণে সমঝোতার মাধ্যমেই আমি যেতে চাই। তবে মন পরিবর্তন করিনি।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

বিষয়টি কি এমন হলো যে প্রশাসনসহ সব জায়গার মতো বিশ্ববিদ্যালয়েও দলীয় লোক বসানো হবে। তাই আপনি সুযোগ করে দিয়ে চলে গেলেন?

নিয়াজ আহমদ: আমি যদি পদ আঁকড়ে থাকি, তাহলে তা ‘চাকরি’ করা হবে, প্রকৃত দায়িত্ব পালন হবে না। বাংলাদেশের বাস্তবতায় আমি মনে করি, রাজনৈতিক সরকারের অনেক চিন্তা থাকে, তার মধ্যে শুভচিন্তা রয়েছে। তাদেরকে তাদের মতো করে কাজ করতে দেওয়া উচিত।

বেশ কিছু কাজ হয়েছে, ব্যর্থতাও আছে। সিস্টেমেটিক্যালি আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিবেচনা করে কিছু ক্ষেত্রে হাত দিয়েছি, সব কটি পারিনি।
প্রথম আলো:

আপনি প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালন করলেন। কোন তিনটি কাজকে আপনি আপনার বিবেচনায় সবচেয়ে ভালো বলবেন?

নিয়াজ আহমদ: অতৃপ্তি থাকেই। তারপরও বড় মাপে যদি বলি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোটামুটি সংহত হয়েছে। তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল সংসদ ও ডাকসু (কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ)। ছোট পরিসরের উদাহরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম’, যেটা সিন্ডিকেটে অনুমোদিত। এখন ভিসি (উপাচার্য) ইচ্ছে করলেই সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারবেন না। দ্বিতীয় যেটা বলব, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমাদের চমৎকার কিছু গবেষক রয়েছেন। তাঁদের আমরা উৎসাহিত করেছি। তার কিছু ফল আমরা আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে পাচ্ছি। গবেষকদের আমরা দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়েছি। স্ট্যানফোর্ডের তালিকায় বিজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রায় ৩২ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন (যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ডস টপ ২ শতাংশ সায়েন্টিস্টের তালিকা)। এটা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।

তৃতীয় বিষয়টি হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবর্তনের সংস্কৃতি, হলের গণরুম ও গেস্টরুম (অতিথিকক্ষে ডেকে নিয়ে আদবকায়দা শেখানোর নামে নির্যাতন) সংস্কৃতির অবসান হয়েছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে সিট পাচ্ছে। মেয়েদের সবাইকে দিতে পারিনি। যাঁদের সিট দিতে পারিনি, তাঁদের সামান্য, মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে (অসচ্ছল ও প্রান্তিকদের)।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

একাডেমিক দিকগুলোয় কী উন্নতি হয়েছে? যেমন দলীয় শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা, পড়াশোনা, কারিকুলাম ও পরীক্ষার মানোন্নয়ন ইত্যাদি।

নিয়াজ আহমদ: বেশ কিছু কাজ হয়েছে, ব্যর্থতাও আছে। সিস্টেমেটিক্যালি আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিবেচনা করে কিছু ক্ষেত্রে হাত দিয়েছি, সব কটি পারিনি। একটা হলো, একাডেমি-ইন্ডাস্ট্রি কোলারোবেশন (সম্পর্ক ও কাজ) বাড়ানোর চেষ্টা। এখন ১৩টি প্রকল্প চলছে। আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশনের মাত্রা বেড়েছে। এখন সর্বোচ্চ রিসার্চ প্রকল্প চলছে। ব্যুরোক্রেসি এ ক্ষেত্রে শূন্য করে ফেলা হয়েছে। ভালো মানের জার্নালে প্রকাশনা প্রকাশের জন্য খরচ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের প্রথমবারের মতো গবেষণা সহকারী হিসেবে নিয়োগের সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। আমরা বৈশ্বিক তহবিল থেকে বড় গবেষণা প্রকল্প পেয়েছি। ৩১টি বড় মাপের গবেষণা প্রকল্প চলছে, যার ফলাফল দুই বছর পর বোঝা যাবে।

অবশ্য এখনো অনেক পথ বাকি। ওবিই (আউটকাম-বেজড এডুকেশন বা ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা) সিলেবাস পুরোপুরি করতে পারিনি। ৫৫ শতাংশ বিভাগে এটা হয়েছে। আরও কিছু পথ বাকি। আইকিউএসিতে (প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ কেন্দ্র) দল-মত বিবেচনায় না নিয়ে সর্বোচ্চ সাইটেশনধারী (যাঁদের গবেষণা সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত করা হয়) শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান
ফাইল ছবি
প্রথম আলো:

আমরা অতীতে ব্যর্থতা স্বীকার করতে দেখিনি। আপনি কি নিজের কোনো ব্যর্থতা দেখেন?

নিয়াজ আহমদ: ব্যর্থতা তো অনেক আছে। গবেষণার ক্ষেত্রে যতটা সময় দেওয়ার দরকার ছিল, আমরা পারিনি। অনেকটা বড় সময় গেছে আপৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে। এটা যদি কম থাকত, তাহলে আরেকটু সময় অ্যাকাডেমিক কাজে দেওয়া যেত।

একটা নতুন আবহ তৈরি হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের ‘এমপাওয়ারমেন্ট’ (ক্ষমতায়ন) হয়েছে। শিক্ষকদেরও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বেড়েছে।
প্রথম আলো:

আপনি ভয়ের সংস্কৃতি দূর হওয়ার কথা বলছিলেন। আমরাও দেখেছি, সংঘর্ষ, অস্ত্রবাজি হয়নি বললেই চলে। কিন্তু নতুন ধরনের আচরণ আমরা দেখেছি, যাঁকে ‘নতুন ধরনের মাস্তানি’ বলে অভিহিত করেন কেউ কেউ। এটা কি সমর্থনযোগ্য?

নিয়াজ আহমদ: একটা নতুন আবহ তৈরি হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের ‘এমপাওয়ারমেন্ট’ (ক্ষমতায়ন) হয়েছে। শিক্ষকদেরও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে কথা বলা হচ্ছে, স্মরণকালে কখনো এই মাপের স্বাধীনতা ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে এর অযৌক্তিক ব্যবহারও হচ্ছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার বিষয়টি আছে। আবার এটি জনপরিসরও। দুইয়ের সমন্বয় করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ‘ওভার স্টেপিং’ও (সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া) হয়েছে। সেটা নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। তবে উদ্দেশ্য ছিল শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখা।

প্রথম আলো:

আপনি উদ্দেশ্য নিয়ে বললেন এবং ‘ওভার স্টেপিংয়ের’ কথা বললেন। কিন্তু ‘ওভার স্টেপিংয়ের’ ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

নিয়াজ আহমদ: আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি প্রক্রিয়া মেনে ব্যবস্থা নিই। এখন দুটি ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আমার স্মরণ আছে।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে শিশু-কিশোরদের কান ধরে ওঠবস করানোর বিষয়টি কি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে?

নিয়াজ আহমদ: ডিসিপ্লিনারি বোর্ড এ ঘটনায় প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে এবং অভিযুক্তকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এরপরই এটি সিন্ডিকেটে গেছে।

আমি আবার বলছি, আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লেষ নেই। বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, কোনো সময়ে আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লেষ পেলে আমাকে জানান। অসত্য বয়ানকারীদের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই। এটি আমি মানুষের ওপর ছেড়ে দিতে চাই।
প্রথম আলো:

আপনার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগও আছে। একটি হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্রসংগঠনের প্রতি আপনার পক্ষপাতিত্ব। আপনি কী বলবেন?

নিয়াজ আহমদ: নির্দয় ও অসত্য অভিযোগকারী থাকবে। সেটা আমি মেনে নিই এবং এসব বলার পূর্ণ অধিকার তাঁদের আছে। আমি আবার বলছি, আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লেষ নেই। বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, কোনো সময়ে আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লেষ পেলে আমাকে জানান। অসত্য বয়ানকারীদের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই। এটি আমি মানুষের ওপর ছেড়ে দিতে চাই।

দ্বিতীয় হলো, আমাদের সময়ে হওয়া ডাকসু নির্বাচনে কিছু মানবিক ত্রুটিবিচ্যুতি ছাড়া...এবং সেটা আমরা সরাসরি বলেছি। গণনায় কিছু ভুল হয়েছিল, সেটা ঠিক করে নিয়েছি। ফলাফলে তার কোনো প্রভাব ছিল না। এর বাইরে কোনো বড় মাপের অনিয়মের প্রমাণ আমরা পাইনি। তৃতীয় পক্ষ দিয়েও আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি। প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরে এবং গণনার সময় সাংবাদিকেরা ছিলেন। বড় মাপের দুর্বলতা যদি থাকত, শিক্ষার্থীদের যদি সন্দেহ থাকত যে তাদের মতের প্রতিফলন হয়নি, তাহলে তারা অবশ্যই মাঠে নেমে প্রতিবাদ করত। আমি আমার বিবেকের কাছে পরিষ্কার, কোনো ছাত্রসংগঠনকে আলাদাভাবে কোনো সুবিধা দিইনি, অসুবিধাও করিনি।

প্রথম আলো:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে ছাত্রদল হলে কমিটি করতে চাইল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে তাদের বাধা দেওয়া হলো। ছাত্রদল বলেছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে থাকা একটি ছাত্রসংগঠন তাদের বাধা দিয়েছে। তাহলে কি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ (সবার জন্য সমান সুযোগ) হলো?

নিয়াজ আহমদ: আরগুমেন্ট পক্ষে-বিপক্ষে থাকে। এটা নিয়ে একাডেমিক-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হতে পারে। আমি পূর্ণ সহযোগিতা করব। আমরা ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ১১ মাস প্রস্তুতি নিয়েছি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে সব রাজনৈতিক ঘরানার মানুষ ছিলেন। এমন মেজর (বড়) অভিযোগ তাঁদের নজর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁরা যেসব ক্ষেত্রে প্রমাণ পেয়েছেন, ব্যবস্থা নিয়েছেন। তারপরও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন হলে, যাতে ভবিষ্যতে রিপিট না হয়, আমি একাডেমিক বিশ্লেষণের পক্ষে।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান
ফাইল ছবি
প্রথম আলো:

২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর আপনি আমাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি থাকবে, লেজুড়বৃত্তি নয়। আমরা তো এখন ছাত্রসংগঠনের দলীয় লেজুড়বৃত্তিই দেখছি।

নিয়াজ আহমদ: ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, দলীয় রাজনীতির খারাপ দিকটি লেজুড়বৃত্তির কারণে হয়। এ বিষয়ে আমরা দেশবরেণ্য মানুষদের নিয়ে একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম। ফলাফলটি পুরোপুরি পাইনি। থেমে যাওয়ার একটি প্রধান কারণ ডাকসু নির্বাচনকেন্দ্রিক, ওই সময়ে নির্বাচনটির সুযোগ করে দেওয়া। আসলে লেজুড়বৃত্তি বন্ধে একটি সমঝোতাভিত্তিক সামাজিক চুক্তি দরকার। প্রশাসনিক পদক্ষেপে সম্ভব নয়। আমি মনে করি, এ আলোচনা জিইয়ে রাখা দরকার।  

প্রথম আলো:

যাঁরা লেজুড়বৃত্তি বন্ধের দাবি তুলেছিলেন, তাঁরাই ডাকসু নির্বাচনের পরে এ দাবি আর তুলছেন না। তাহলে কি সামাজিক চুক্তি সম্ভব?

নিয়াজ আহমদ: সামাজিক চুক্তির উদ্যোগটা জিইয়ে রাখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে একটি কমিটি এখনো আছে। তবে এটি আমার একটি অসমাপ্ত কাজ।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান
ফাইল ছবি
প্রথম আলো:

অনেকে আপনাকে ‘৩৬ পৃষ্ঠা সিভির’ ভিসি বলেন। আপনি কি বলবেন?

নিয়াজ আহমদ: আমি সরকার ও সরকারের বাইরে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেছি। তাতে সিভি কিছু বড় হয়েছে। মানুষ যা বলে তা আমি ভালোভাবেই নিই।

প্রথম আলো:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ আছে। আপনি কি সমর্থন করেন?

নিয়াজ আহমদ: প্রথমে প্রক্রিয়াটি বলি, হল সংসদ থেকে প্রস্তাব এসেছে। তা হল প্রশাসন ও ডাকসু ‘এনডোর্স’ (সমর্থন) করেছে। পরে বিষয়টির ভালো-মন্দ নিয়ে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম ও সিন্ডিকেটে আলোচনা হয়েছে। এখন পুরো আলোচনাসহ প্রস্তাব সিনেটে পাঠানো হয়েছে। তারাই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের সব অগ্রনায়কের ব্যক্তিগত পর্যায়ের স্বীকৃতিকে পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা করি।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান
ছবি: ঢাবির ওয়েবসাইট থেকে
প্রথম আলো:

রাষ্ট্রীয়ভাবে রি-কন্সিলিয়েশনের বিষয়টি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে করা হয়েছে কি?

নিয়াজ আহমদ: বিষয়টি তুলেছেন, ভালো হলো। আমরা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করেছি। তার ৩ নম্বর ধারায় বলা আছে, যেখানে সুযোগ পাওয়া যায় সেখানে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে। এটা কমিটির ম্যান্ডেট। ৩২টি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি আছে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা বিভাগ পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে। যেগুলোর আইনি বিষয় রয়েছে, সেগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পূর্ণ তদন্ত কমিটিতে গেছে।

প্রথম আলো:

আমি শেষ প্রশ্ন করব, তার আগে আপনি কিছু যোগ করবেন কি?

নিয়াজ আহমদ: আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। জুলাই আন্দোলনের অগ্রভাগে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা আমাকে এই দায়িত্বের জন্য ডেকেছিলেন। আমি আল্লাহকে স্মরণ করেছি। দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি, কিছু ভুল করেছি, কিছু সঠিক করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় এখন সার্বিক বিবেচনায় একটা পর্যায়ে এসেছে। আমি আনন্দের সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি।

প্রথম আলো:

সম্ভবত আগামী শনিবার আপনার শেষ দিন। এরপর কী করবেন?

নিয়াজ আহমদ: বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে ফিরে যাব। কিছুদিন বিশ্রাম নেব। গবেষণা করব। এরপর বড় পরিসরে কিছু কাজ করব। জাতীয় পরিসরে শিক্ষাক্ষেত্রে কিছু করার সুযোগ থাকলে আমি গ্রহণ করব।