আনিসুল ও সালমানের মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন, আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১-এ এই মামলায় আজ মঙ্গলবার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এই মামলার আসামি আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটি ছিল দীর্ঘ ১৬ বছরের পরিকল্পিত দমন–পীড়ন, স্বৈরতন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ, একটি ঐতিহাসিক গণজাগরণ। এই মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে এবং যে প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হবে, তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করবে যে এই হত্যাযজ্ঞ ছিল পূর্বপরিকল্পিত, পদ্ধতিগত, লক্ষ্যভিত্তিক এবং ব্যাপক মাত্রায় সংঘটিত।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আসামি সালমান এফ রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। আসামি আনিসুল হক আইন রক্ষার শপথ নিয়েও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে আইনি ও নীতিগত প্রশ্রয় দিয়েছেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাতে আনিসুল ও সালমান আন্দোলন দমনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সেনা মোতায়েন ও দেশব্যাপী কারফিউ জারি করা হয়, যা হত্যাযজ্ঞকে আরও ত্বরান্বিত করে। এরপর ২০২৪ সালের ২০ জুলাই, ২৮ জুলাই, ৪ আগস্ট এবং ৫ আগস্ট, পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসেও এই রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞ থামেনি। এই হত্যাযজ্ঞের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর মিরপুরে সিফাত হাওলাদার, আখতারুজ্জামান, শাহরিয়ার আলভীসহ একের পর এক তরুণ প্রাণ ঝরে পড়ে। শুধু ২০ জুলাই এক দিনেই কমপক্ষে ২০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।