মুছাব্বির হত্যা: আবার ৩ দিনের রিমান্ডে বিল্লাল, অপর দুই আসামি কারাগারে
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার মামলায় আসামি মো. বিল্লালকে আবার তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মামলার অপর দুই আসামি মো. আবদুল কাদির ও মো. রিয়াজকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সাত দিনের রিমান্ড শেষে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আসামি বিল্লালের পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অপর দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি (বিল্লাল) মামলার ঘটনাটি কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে মামলার ভিডিও ফুটেজ ও আগে গ্রেপ্তার হওয়া ‘শুটার’ জিন্নাতের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, বিল্লাল এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, অর্থ লেনদেনকারী এবং অস্ত্রের জোগানদাতা। তিনি পুরো ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, অস্ত্রের উৎস শনাক্ত এবং মূল হোতাকে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
শুনানি শেষে আদালত বিল্লালের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং বাকি দুজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
এর আগে ১১ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পূর্ব নাখালপাড়া এলাকা থেকে বিল্লালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাঁদের সাত দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ৭ জানুয়ারি রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে তেজতুরী বাজার এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন মুছাব্বির। এর ১০ মিনিট পর আহছানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে চার থেকে পাঁচজন তাঁর গতি রোধ করে গুলি ছোড়েন। গুলিতে মুছাব্বির মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর সঙ্গে থাকা সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁকেও গুলি করা হয়। হামলাকারী ব্যক্তিরা তাঁদের মৃত ভেবে পালিয়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ৭ জানুয়ারি মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।