জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ইউনেসকোর

ইউনেসকোর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রধান মেহেদি বেনচেলাহ তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে সন্ত্রাসী হামলায় পুড়ে যাওয়া প্রথম আলোর কার্যালয় পরিদর্শন করেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারেছবি: প্রথম আলো

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেসকো)। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে হামলা এবং নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তাঝুঁকিকে সংস্থাটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শনকালে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থাটির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রধান মেহেদি বেনচেলাহ।

মেহেদি বেনচেলাহর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলটি প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি সরেজমিনে জানার পাশাপাশি মতবিনিময় করে। এ সময় মেহেদি বেনচেলাহকে স্বাগত জানান প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ।

পরিদর্শনকালে মেহেদি বেনচেলাহ রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রথম আলোর পুড়ে যাওয়া ও লুট হওয়া ভবন ঘুরে দেখেন। হামলায় যে মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা দেখে তিনি হতবাক হন।

প্রথম আলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মেহেদি বেনচেলাহ বলেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ইউনেসকো অব্যাহত রাখবে। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে নির্বাচনকালীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের আরও প্রস্তুত করতে সহযোগিতা করা হবে।

প্রথম আলো কার্যালয়ে নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বেনচেলাহ। সেখানে তিনি হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান।

বৈঠকে সাজ্জাদ শরিফ গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে সংঘটিত হামলার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথম আলোর ২৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম হামলার পরদিন এক দিনের জন্য পত্রিকার ছাপা ও অনলাইন—দুই সংস্করণই প্রকাশ বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়েছিল। তবে পরদিন থেকেই আবার স্বাভাবিকভাবে ছাপা ও অনলাইন প্রকাশনা শুরু হয়। তিনি হামলার পর সাংবাদিকদের মানসিক আঘাতের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

জনসমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচি কাভার করার সময় প্রথম আলোর সাংবাদিকেরা কতটা নিরাপদ বোধ করেন এবং ভবিষ্যতে আবার কার্যালয়ে হামলার আশঙ্কা আছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চান মেহেদি বেনচেলাহ। এ সময় তাঁকে জানানো হয়, কিছু ঝুঁকি থাকলেও নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং সমর্থন নতুন করে সহিংসতা রোধে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করেছে। একই সঙ্গে সরকারও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়।

আলোচনায় প্রথম আলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন, সরকারের উপদেষ্টা ও ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের কার্যালয় পরিদর্শনের বিষয়টিও উঠে আসে। হামলার পর সাংবাদিক সমাজের ঐক্যের কথাও বেনচেলাহকে জানানো হয়।

বৈঠকে বেনচেলাহর সঙ্গে ইউনেসকোর অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রথম আলো ইংরেজি অনলাইনের প্রধান আয়েশা কবিরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরাও এতে অংশ নেন।