এক-এগারোর সময়ের ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ বিচারেও কাজ করবে ট্রাইব্যুনাল

ফাইল ছবি: প্রথম আলো

এক–এগারোর সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়ে থাকলে স্বপ্রণোদিতভাবে তা ট্রাইব্যুনাল (তদন্ত সংস্থা) তদন্ত করবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্তের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে ট্রাইব্যুনালে বিচারের সম্মুখীন করা হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আমরা এক কথায় কি বলতে পারব যে ক্রসফায়ারের সব ঘটনা ট্রাইব্যুনাল তদন্ত করবে। যেটা এখানে বিচার হওয়ার মতো সেখানে হবে, বাকিটা অন্য…।’

এর জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে...বৈষম্যবিরোধী–সংক্রান্ত যে মামলাগুলো হয়েছে, ইভেন দেন (এমনকি) এক–এগারোর সময় যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে; সেগুলো যদি আমাদের এই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত হয়, সেগুলো আমরা তুলে নিয়ে আসব।’

এ সময় আরেকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, এক–এগারোর একজন কুশীলব বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছের, তাঁকে কি ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলায় আনা হবে?

এর জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এক–এগারোর সময় বা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যাঁদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, ট্রাইব্যুনাল সুয়োমোটো (স্বপ্রণোদিত) সেগুলো ইনভেস্টিগেশন (তদন্ত) করবে। যদি সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়, ট্রাইব্যুনালে বিচারের সম্মুখীন করা হবে।

**সারা দেশে যত ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, সব মামলার কপি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সংগ্রহ করছে। **২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে যত মামলা হয়েছে, সব যাচাই–বাছাই করার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা হস্তক্ষেপে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। তখন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টারও দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এরপর সেনা–সমর্থিত নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়, যা এক–এগারো (১/১১) নামে পরিচিত।

আরও পড়ুন

এক-এগারোর পটপরিবর্তনের প্রধান উদ্যোক্তা বা মূল কুশীলব হিসেবে মনে করা হয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। তাঁকে ২৩ মার্চ গভীর রাতে গ্রেপ্তার করে ডিবি। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গত ২৫ মার্চ রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুজনকেই ট্রাইব্যুনালে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এক-এগারোর সময় যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে; সেগুলো আমরা, যদি আমাদের এই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত হয়, সেগুলো আমরা তুলে নিয়ে আসব।
—মো. আমিনুল ইসলাম, চিফ প্রসিকিউটর
আরও পড়ুন

ক্রসফায়ারের মামলার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে

সারা দেশে যত ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, সব মামলার কপি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সংগ্রহ করছে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ক্রসফায়ারের যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো তাঁরা যাচাই-বাছাই করবেন। এ জন্য একটা কমিটি গঠন করা হবে।

যাচাই-বাছাইয়ের পর ক্রসফায়ারের অপরাধগুলোর মধ্যে যেগুলো ট্রাইবুনালের বিচারের আওতাভুক্ত হবে, সেসব বিচার ট্রাইবুনালে করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।