জানামতে, দেশে অর্কিড নিয়ে মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে গবেষণাগার পর্যন্ত তিনিই সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণাকর্মের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও শ্রমসাধ্য কাজ হলো,Ñদেশের অর্কিড ভান্ডারে আরও ১৭ প্রজাতির নতুন অর্কিডের সংযোজন। এই কর্মযজ্ঞে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুজন গবেষক—মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং মো. ওয়াহিদুল আলম। তাঁরা বলছেন, এই ১৭ প্রজাতির অর্কিড দেশে সম্পূর্ণ নতুন। নতুন এই অর্কিডগুলোর ওপর বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য জার্নালগুলো হলো, চিটাগং ইউনিভার্সিটি বায়োলজিক্যাল সায়েন্স জার্নাল, বাংলাদেশ জে. প্ল্যান্ট ট্যাক্সন, ইন্ডিয়ান ফরেস্টার, জার্নাল অব অর্কিড সোসাইটি-ইন্ডিয়া, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি বায়োলজিক্যাল সায়েন্স জার্নাল ইত্যাদি। নতুন জাতের এই অর্কিডগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুর, বান্দরবানের চিম্বুক, রুমা, থানচি, রেমাক্রি, নীলগিরির জীবননগর, কেওক্রাডং, বগালেকপাড়া ও টেকনাফের জাহানপুর এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার দুধপুকুরিয়া এলাকার ধোপাছড়ি থেকে। এর মধ্যে সিলেটের জৈন্তাপুর ও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থান থেকে সবচেয়ে বেশি প্রজাতি রেকর্ড করা হয়েছে।

default-image

নতুন জাতের এই অর্কিডগুলোর বৈজ্ঞানিক নাম ও প্রাপ্তিস্থান: ১. Coelogyne schultesii জৈন্তাপুর, সিলেট; ২. Coelogyne suaveolens বান্দরবনের চিম্বুক; ৩. Coelogyne trinervis বান্দরবানের রুমা; ৪. Chiloschista parishii থানচি-রেমাক্রি, বান্দরবান; ৫. Coelogyne ovalis চিম্বুক পাহাড়, বান্দরবান; ৬. Conchidium extinctorium থানচি, রেমাক্রি-বান্দরবান; ৭. Dendrobium parcum জাহানপুর, টেকনাফ; ৮. Coelogyne schwadtkii বগালেকপাড়া, রুমা, বান্দরবান; ৯. Cleisostoma williamsonii জৈন্তাপুর, সিলেট; ১০. Phalaenopsis difformis জৈন্তাপুর, সিলেট; ১১. Pinalia obesa, নীলগিরি, জীবননগর পাহাড়, বান্দরবান; ১২. Pinalia spicata কেওক্রাডং, রুমা, বান্দরবান; ১৩. Pinalia acervata , কেওক্রাডং, রুমা, বান্দরবান; ১৪. . Bulbophyllum rufinum বগালেকপাড়া, রুমা, বান্দরবান; ১৫. Bulbophyllum crassipes দুধপুকুরিয়া, ধোপাছড়ি, রাঙ্গুনিয়া; ১৬. Aerides rosea থানচি, রেমাক্রি, বান্দরবন; ১৭. Bulbophyllum cylindraceum জৈন্তাপুর, সিলেট। অর্কিডগুলোর বাংলা নাম নেই।

default-image

এই গবেষণাকর্মের অন্যতম গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, নতুন অর্কিডগুলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অর্কিড ঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্কিডগুলোর হারবেরিয়াম শিটও সংরক্ষণ করা হয়েছে। গবেষণাকর্মটি পরিচালিত হয় ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে।

২০০৮ সালে প্রকাশিত অধ্যাপক কামরুল হুদার একটি গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে ৭০ গণের অধীনে ১৭৯ প্রজাতির অর্কিড পাওয়া যায়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের গবেষণা প্রবন্ধে তিনি জানান, বাংলাদেশে ৭২ গণের অধীনে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৮টি, যার মধ্যে ১১৭টি পরাশ্রয়ী এবং ভূমি-আশ্রয়ী ৭১টি। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সংখ্যাটি এখন নিশ্চয়ই আরও বেড়েছে।

default-image

অধ্যাপক হুদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাসায় গড়ে তুলেছিলেন দেশের সর্ববৃহৎ অর্কিডেরিয়াম। তিনি গড়েছিলেন দেশি ১৯৩টি জাতের অর্কিডের এক গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালা। অর্কিডের জীব-সক্রিয় যৌগ, অ্যান্টিক্যানসার যৌগ ও ভেষজ গুণের গবেষণা নিয়ে তিনি শিগগিরই দেশকে সুখবর দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। বাংলাদেশের অর্কিডবিষয়ক গবেষণায় এই কৃতী উদ্ভিদসাধকের অবদান প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন