আইইডিসিআর ৯টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও কার্যকারিতার প্রবণতার ওপর ২০১৭ সাল থেকে নজরদারি করছে। এসব হাসপাতাল থেকে তারা নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করে। সেমিনারে ছয় বছরের নজরদারির তথ্য উপস্থাপন করেন আইইডিসিআরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক জাকির হোসেন।

৬ হাজার ৮৬৮ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ৮ শতাংশ জীবাণুর ক্ষেত্রে সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করার মতো ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জাকির হোসেন বলেন, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বেশ কিছু রোগের জীবাণুর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ঠিকমতো কাজ করছে না। কাজ না করার প্রবণতা আগের চেয়ে বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ৬ হাজার ৮৬৮ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ৮ শতাংশ জীবাণুর ক্ষেত্রে সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করার মতো ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করার প্রবণতা হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর ক্ষেত্রে বেশি দেখা গেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক জাকির বলেন, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে একই সমস্যা আছে। তুলনামূলকভাবে পরিমাণে কম হলেও সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে এ সমস্যা দেখা যাচ্ছে।  

অ্যান্টিবায়োটিক জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। অযৌক্তিক ও যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে ওষুধটি অকার্যকর হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়; বৈশ্বিক সমস্যা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা মহামারির মতো বিপজ্জনক। এ কারণে একটি দেশের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়লে সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধব্যবস্থা থাকবে না।