সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের শিকার প্রথম আলো ভবনে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’ দেখতে এসেছিলেন সাবেক উপদেষ্টা, আইনজীবী, লেখক, শিল্পী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্প প্রদর্শনীর নবম দিনে প্রচুর দর্শকসমাগম হয়েছিল। তাঁরা শিল্পকর্মটির প্রশংসা করেন এবং ভয়াবহ এই হামলার নিন্দা করে দোষী ব্যক্তিদের আইনানুগ শাস্তি দাবি করেন।
প্রদর্শনী দেখতে এসে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, গত ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোর ওপর যে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল, তা ঠেকাতে না পারাটা সেই সময়কার সরকারের ব্যর্থতা ছিল। এ ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। তিনি মনে করেন, এই আঘাতের কারণে প্রথম আলো তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবে না।
শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের শিল্প প্রদর্শনী
‘আলো’ শুরু হয়েছে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি, চলবে আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বেলা ১১টা থেকে ১টা ও বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত।
আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, এমন হামলা দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে আর ঘটেনি। ঘটনার দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যাঁরা নিয়োজিত ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রদর্শনী দেখতে আরও এসেছিলেন আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, লেখক ও গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ, পর্বতারোহী ও লেখক ইফতেখারুল ইসলাম, অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক প্রমুখ।
সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের জন্য আতঙ্কের
প্রদর্শনী দেখতে আসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি ইউসিএসআই বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউল্যাবের শিক্ষার্থীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা বলেন, ‘সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে এ পরিস্থিতি আমাদের জন্য আতঙ্কের। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, যেন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হয়।’
ইউসিএসআই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রভাষক আহমেদ বিন কাদের। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দেখাতে চেয়েছি যে বাংলাদেশে প্রথম সারির গণমাধ্যমটি কতটা জঘন্য আক্রমণের শিকার হয়েছে। দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটা করুণ।’
না দেখলে বীভৎসতা বোঝা যায় না
প্রদর্শনী দেখতে আসেন বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। তাঁরা প্রথম আলোর ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন। ইউএনডিপি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশনস আবদুল কাইয়ুম বললেন, এ ঘটনা কতটা বীভৎস ছিল, সেটা সরাসরি না দেখলে বোঝা যেত না।
প্রদর্শনী দেখতে আসেন মিডিয়াকমের সিইও অজয় কুমার কুন্ডু, এমবিএর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রাহাত সোহায়েল অনন্যা, এমসিএলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হাসান ফারুক ও অ্যানেক্সের ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনস ম্যানেজার (ডিজিটাল) মাজহারুল ইসলাম।
আরও এসেছিলেন কাজী কনসালট্যান্টের প্রতিষ্ঠাতা কাজী এম আহমেদ, নগদ লিমিটেডের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক আবু সাদাত প্রমুখ। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টর অব কমিউনিকেশনস খায়রুল বাশার, ঢাকা ব্যাংকের হেড অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ব্র্যান্ড সৈয়দ গোলাম দস্তগীর, আইএফআইসির হেড অব কমিউনিকেশনস আনোয়ার এহতেশাম, টি কে গ্রুপের মার্কেটিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ মোফাচ্ছেল হক, শাহ্ সিমেন্টের হেড অব মার্কেটিং ইব্রাহিম খলিল, প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন ম্যানেজার শাহরিয়ার খান, কল্লোল গ্রুপের হেড অব ডিজিটাল মার্কেটিং ও ই-কমার্স রিফাত আহমেদ, ফ্রেশ সিরামিকসের হেড অব ব্র্যান্ড শাহজাদা ইয়াসির আরাফাত, বার্জার পেইন্টের ম্যানেজার (মিডিয়া অ্যান্ড ডিজিটাল) আশিকুল ইসলাম, সিটি গ্রুপের ব্র্যান্ড স্পেশালিস্ট তানজিম জাহান, ওয়ালটনের অ্যাডিশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) রবিউল ইসলাম, ইউনিলিভারের পিআর অ্যান্ড প্রজেক্ট ম্যানেজার এস এম ফয়সাল, এসকেমি বাংলাদেশের রিজিওনাল ডিরেক্টর (সাউথ এশিয়া) জসুয়া অধিকারী, আকিজ বশির এনার্জি লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার এস এম সৈকতুল ইসলাম, ডেল্টা লাইফ অ্যান্ড ইনস্যুরেন্সের ডিএমডি আনোয়ারুল হক, বিকাশের জেনারেল ম্যানেজার (পিআর অ্যান্ড মিডিয়া) রোকসানা মিলি, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পিআরডি বিভাগের আবদুল হামিদ সোহাগ, এসএমসি এন্টারপ্রাইজের রাইয়াতুন তেহরিন প্রমুখ।
বিচারের দাবি জামায়াতের
বিকেলে প্রদর্শনী দেখতে এসে প্রথম আলো ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্ত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। জামায়াতের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান, মজলিশে শুরার সদস্য আতাউর রহমান সরকার, মিডিয়া সেলের সদস্য অলিউল্লাহ নোমান প্রমুখ।