দেশ গড়ার পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী মানুষের অংশগ্রহণ চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কী কী করা দরকার, এটা তাঁরাই সবচেয়ে ভালো বুঝবেন। প্রতিবন্ধী মানুষের কাছ থেকে জানার ও শেখার অনেক কিছু রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাইমা রহমান। বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘প্রোসপারিং টুগেদার: অ্যান ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ’ (একসঙ্গে সমৃদ্ধি: অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ)। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নানা বয়সী ২২ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
এই আয়োজনের জন্য পার্কের খোলা চত্বরে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে মধ্যখানে বসেন জাইমা রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইশারা ভাষা অনুবাদকারী (দোভাষী হিসেবেও পরিচিত) আফরোজা খাতুন। আর জাইমা রহমানের দুই পাশে বসেন প্রতিবন্ধী মানুষেরা। দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই অনুষ্ঠানের পুরোটা সময় তিনি প্রতিবন্ধী মানুষের কথা শোনেন। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে জাইমা রহমান শুধু বলেছেন, সবার বক্তব্যে তিনি অনেক কিছু জেনেছেন, শিখেছেন।
নানা সীমাবদ্ধতা-কষ্টের মধ্যেও প্রতিবন্ধী মানুষেরা যে সক্ষমতা ও সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশ ও জাতির জন্য গর্বের বলে উল্লেখ করেন জাইমা রহমান।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন। একজন বলেন, সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়ে প্রতিবন্ধী শিশুরা। আবার প্রতিবন্ধী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে মাসে অন্তত পাঁচ হাজার টাকা করার কথাও বলেন তিনি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ময়মনসিংহ থেকে মোকাম্মল হোসেন বলেন, সরকারি দপ্তর থেকে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না। উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন বাজেটের একটি অংশ প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।
কুমিল্লা থেকে আসা একজন বলেন, দুর্ঘটনায় একটি হাত হারানোর পরও তিনি কর্মজীবনে সক্রিয় আছেন। প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন অনেকে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, চাকরি স্থায়ী করার ক্ষেত্রে গড়িমসি এবং প্রতিবাদ করলে চাকরি ছাড়ার হুমকির বিষয়টিও এই আলোচনায় উঠে আসে।
শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী একজন নারী কর্মস্থলে হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের সুরক্ষায় কঠোর আইন ও তার বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন। চিকিৎসা নিতে গিয়ে ইশারা ভাষা না বোঝার কারণে ভুল–বোঝাবুঝি ও ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি তৈরি হয় বলেও জানান তিনি।
সরকারি প্রতিটি দপ্তরে ইশারা ভাষার অনুবাদকারী নিয়োগ দেওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করেন একজন। তাঁর এই বক্তব্য সমর্থন করেন অন্যরা।
প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে যথাযথ নজরদারি দরকার বলে উল্লেখ করেন একজন।
অনুষ্ঠানে ইশারা ভাষার অনুবাদকারী আফরোজা খাতুন বলেন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী। তাই যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কষ্ট তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে দোভাষী (ইশারা ভাষা অনুবাদকারী) রাখার জন্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই আয়োজনে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার, বিএনপির চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।