গরমে স্বস্তির জন্য এসি...
সারা দেশে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, দেশে তীব্র তাপপ্রবাহে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। আর ঢাকায় ১৯৬৫ সালের পর সবচেয়ে বেশি গরম পড়েছে এবার। তপ্ত আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়ে শান্তির সুবাতাস দিতে পারে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এয়ারকন্ডিশনার (এসি)। দোকানগুলোতেও ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের। অনেকেই হয়তো ভাবছেন নতুন এসি কেনার। কিন্তু এসি কেনার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখা ভালো।
এসির রকমভেদ
বাজারে বেশ কয়েক ধরনের এসি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ইনভার্টার, নন-ইনভার্টার, সিলিং ক্যাসেট এসি অন্যতম। ওয়ালটন এয়ারকন্ডিশনারের চিফ বিজনেস অফিসার মো. তানভীর রহমান বলেন, ‘সব শ্রেণির ক্রেতাদের জন্য বাংলাদেশে ওয়ালটনের রয়েছে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মডেল ও অত্যাধুনিক ফিচারসমৃদ্ধ এসি। বাসাবাড়ি বা গৃহে ব্যবহারের জন্য আমাদের রয়েছে ১ থেকে ২.৫ টনের ৪৯ মডেলের স্প্লিট এসি।
ছোট, মাঝারি ও বড় স্থাপনার জন্য রয়েছে ১.৫ টন থেকে ৫ টনের ১৯ মডেলের ক্যাসেট ও সিলিং টাইপ কমার্শিয়াল এসি, যা শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অফিস, কমিউনিটি সেন্টার, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি মাঝারি স্থাপনায় ব্যবহারের জন্য আদর্শ। আর অতি বৃহৎ স্থাপনার জন্য রয়েছে ভিআরএফ এবং চিলার।’ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদনে ওয়ালটন বরাবরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
ওয়ালটনই বাংলাদেশে প্রথম নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ স্টার রেটিং স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে ফাইভ পয়েন্ট ফাইভ স্টার (৫.৫) রেটেড স্প্লিট এয়ারকন্ডিশনার, যা বিএসটিআই সার্টিফায়েড স্টার রেটিং মানদণ্ডে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী। ‘ইনভার্না’ (এক্সট্রিম সেভার) সিরিজের ১ টনের এই এসিটির ইনপুট পাওয়ার ৬৯০ ওয়াট। অর্থাৎ এসিটি চলতে সর্বোচ্চ ৬৯০ ওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন ইকো মোডে আট ঘণ্টা করে চালালে মাসে এসিটিতে বিদ্যুৎ খরচ হবে মাত্র ১০৬.৮ ইউনিট। এ ছাড়া ওয়ালটনের বেশির ভাগ এসি ইনভার্টার প্রযুক্তিসংবলিত।
এসির প্রযুক্তি
বর্তমানে অনেক ব্র্যান্ডের এসিতেই ভয়েস সার্চ টেকনোলজি রয়েছে। এর ফলে কথা বলেই আপনি এসিটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। রিমোট খোঁজার ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে। বাংলায় নির্দেশ দেবেন মুখে, সেই অনুযায়ী কাজ করবে এসি। বাংলাদেশ এবং বিশ্বে প্রথম এই প্রযুক্তির এসি বাজারে এনেছে বাংলাদেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন। এই প্রযুক্তি ওয়ালটনের নিজস্ব উদ্ভাবন। ওয়ালটন এসির ব্র্যান্ড ম্যানেজার খলিলুর রহমান বলেন, ওয়ালটন এসি কোনো প্রকার ইলেকট্রনিকস ডিভাইস বা ইন্টারনেট ছাড়া বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই শুধু ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে এসি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ওয়ালটন স্মার্ট এসি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে চালু এবং বন্ধ করাসহ বিদ্যুৎ বিলের হিসাবও সহজেই বের করা যায়। ওয়ালটন এসি সর্বাধুনিক ফ্রস্ট ক্লিন টেকনোলজিসম্পন্ন। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসি নিজেই নিজেকে পরিষ্কার করে। এয়ার প্লাজমা প্রযুক্তি পজিটিভ আয়ন এবং নেগেটিভ আয়ন তৈরির মাধ্যমে বাতাসে বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে রুমের পরিবেশকে রাখে নির্মল ও স্বাস্থ্যকর।’
টার্বো কুল টেকনোলজি নিমেষেই রুমকে ৪০ শতাংশ দ্রুত ঠান্ডা করে। ওয়ালটন এসিতে রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত আর ৩২ এবং আর ৪১০এ গ্যাস পরিবেশকে রাখে নির্মল ও সুরক্ষিত। ইনভার্টার টেকনোলজি অধিক বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে এবং কমপ্রেসরের গতি সামঞ্জস্য করে রেফ্রিজারেন্ট প্রবাহের হার নিয়ন্ত্রণ করে। এতে কম্পন ও শব্দ অনেক কম হয়।
ফোর-ডি এয়ার ফ্লো টেকনোলজি রুমের প্রতিটি কোনায় নির্মল ও স্বাস্থ্যকর বাতাসের প্রবাহ নিশ্চিত করে। ওয়ালটন এসিতে ব্যবহৃত ইউভি কেয়ার টেকনোলজি ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। এর হট অ্যান্ড কুল টেকনোলজি প্রয়োজন অনুযায়ী রুমের তাপমাত্রাকে উষ্ণ ও শীতল করে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ আরাম ও স্বস্তি নিশ্চিত করে। থ্রি ইন ওয়ান কনভার্টার টেকনোলজির এসি গ্রাহকের রুমের আয়তন অনুযায়ী ১.৫ টন থেকে ১ টন এবং পৌনে ১ টনে রূপান্তর সুবিধা রয়েছে।
ঘরে বসেই যাচাই-বাছাই
প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ঘরে বসেই যাচাই-বাছাই করে সব পণ্য কেনা যায়। এতে সময় ও শ্রম—দুইই সাশ্রয় হয়। অনলাইনে বাছাই করে অর্ডার অনুযায়ী প্রিয় পণ্যটি পৌঁছে যায় দোরগোড়ায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের পাশাপাশি আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডের এসিটিও কিনতে পারেন অনলাইনে। কেনার আগে বিভিন্ন পেজে রিভিউ দেখে এসির মডেল ও ব্র্যান্ড নির্বাচন করতে পারেন। কারণ, অভিজ্ঞতা থেকেই বেশির ভাগ সময় রিভিউ দিয়ে থাকেন ব্যবহারকারীরা। এ ক্ষেত্রে ভিজিট করতে পারেন ওয়ালটন ই-প্লাজা ওয়েবসাইট।
সবার জন্যই এসি
যাঁদের এককালীন এসি কেনা কষ্টসাধ্য, তাঁদের জন্য রয়েছে কিস্তি বা ইএমআই সুবিধা। প্রায় সব ব্র্যান্ডের এসির পরিবেশক ও ডিলাররা কিস্তিতে কেনার সুযোগ দিচ্ছে। সঙ্গে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মাসে মাসে কিস্তিতে টাকা দেওয়ার সুবিধা তো আছেই। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এসি কিনতে দিচ্ছে ঋণ। ফলে এসি এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠছে মধ্যবিত্তদেরও।
এসির বাজার থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ওয়ালটন, মার্সেল, এলজি বাটারফ্লাই, সিঙ্গার, গ্রি, জেনারেল, মিডিয়া, হায়ার, ওয়ার্লপুল, ট্রান্সটেক, স্যামসাং, যমুনা, ভিশন, মিনিস্টার, ডাইকিন, ট্রান্সটেকসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসি কেনা যাচ্ছে। এ জন্য ১২ মাস পর্যন্ত কোনো সুদ গুনতে হচ্ছে না। তবে সর্বোচ্চ ৩৬ মাসের ইএমআই সুবিধাও রয়েছে।