ডেইলি স্টারে হামলা, ভাঙচুরের মামলায় আসামি সাইফুল রিমান্ডে

শুনানি শেষে সাইফুল ইসলামকে আদালত থেকে এজলাসে নেওয়া হচ্ছে। ৯ জুলাইছবি: প্রথম আলো

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেপ্তার আরও এক আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে (৩২) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই মো. জহিরুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে আদালতকে তিনি বলেন, এই আসামির ফেসবুক পোস্ট পর্যালোচনা এবং পূর্বের আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা গেছে। এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা শনাক্ত এবং লুটপাটকৃত মালামাল উদ্ধারের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এ সময় রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসাইন আদালতকে বলেন, আসামি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজেই তিনি ওই দিন কারওয়ান বাজার গিয়েছিলেন। ওই দিন হাদির মৃত্যুকে ঘিরে একটা ‘মব’ সৃষ্টি হয়। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে অনেকেই লেখালেখি করেছে। তাদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। লুটপাট, আগুন বা ভাঙচুরের সঙ্গেও জড়িত না। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রথম আলোকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাস্থলে তাঁর উপস্থিতির বিষয় স্বীকার করেছেন। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে তাঁর চেহারার মিল পাওয়া গেছে। বিস্তারিত আরও তথ্যের জন্য আসামিকে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

ডেইলি স্টার কার্যালয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর ভাঙচুরের পর আগুন দেয় সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীরা
ছবি: দ্য ডেইলি স্টার

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাইফুল ইসলামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পোস্ট এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৬ জুলাই রাতে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তদন্ত কর্মকর্তা আসামির সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানালে আদালত আজকের দিন ধার্য করেন।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন গ্রেপ্তারকৃত আসামি রাত ১১টা ১৫ মিনিটে সংঘবদ্ধভাবে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে লুটপাট করে। পরে ডেইলি স্টারে হামলার জন্য উসকানিমূলক পোস্ট করে। এবং রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে ডেইলি স্টারে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। আদালতে পুলিশ জানায়, তাঁর কাছ থেকে একটি আইফোন ও হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি স্ক্রিনশট জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আলামত উদ্ধারের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

৬ জুলাই ডিবির একটি দল কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে ৩২ বছর বয়সী সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এসকেএম লেদার লিমিটেডের মালিক।

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সমন্বিত হামলায় প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এরপর হামলাকারীরা দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলায় দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশে অভিযোগ আনা হয়েছে।