তাসনিম জারাকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না: জাভেদ রাসিন

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় গণসংযোগ করছেন জাভেদ রাসিন। ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন। শেষ সময়ে এই আসন এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে কিছুটা দেরিতে প্রচারে নেমেছেন শাপলা কলি প্রতীকের এই প্রার্থী।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় গণসংযোগ করেন জাভেদ রাসিন। এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, এই আসনের আরেক প্রতিদ্বন্দী একসময় জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) থাকা ও বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। তাঁকে এই আসন ছেড়ে দেওয়া হবে কি না।

জবাবে জাভেদ রাসিন বলেন, না, না; এটা তো ছাড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। এটি ছাড়ার প্রশ্ন থাকলে এখানে নতুন করে শাপলা কলির মনোনয়ন দেওয়া হতো না। তিনি বলেন, ‘এটাকে (ঢাকা-৯ আসন) আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করি বলেই এটা পাওয়ার জন্য বা এটাকে আমরা জয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’

জাভেদ রাসিন আরও বলেন, ‘১২ তারিখ পর্যন্ত একেবারে ভোট গণনা পর্যন্ত, ভোটের রেজাল্ট ঘরে না নিয়ে আসা পর্যন্ত সেই চেষ্টাটা আমরা অব্যাহত রাখব এবং দিনকে দিন সেই চেষ্টাটা বাড়িয়ে যাব।’

শুরু থেকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কবির আহমদ প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। শেষ মুহূর্তে আসনটি এনসিপিকে দেওয়ায় অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় জাভেদ রাসিনের প্রচারসামগ্রী ও তৎপরতা কিছুটা কম দেখা গেছে।

আচরণবিধি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে নামলেও জাভেদ রাসিন শুরু করেছেন গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) থেকে।

দেরিতে শুরু করলেও ভোটারদের সাড়া প্রসঙ্গে এই প্রার্থী বলেন, ‘ভোটারদের কাছ থেকে আমি অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। সবাই আসলে পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে, তারা পরিবর্তন চায়। আসলে ৫ আগস্টের পরে আমরা যে পরিবর্তনটা চেয়েছিলাম, সেটা আমরা স্থায়ী রূপ দিতে পারি নাই। সেই স্থায়ী রূপটা দেওয়ার জন্য আমরা মনে করি যে ভোটাররাও এখন সেই পরিবর্তনটা দেখতে চায়।’

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে জাভেদ রাসিন বলেন, ১২ তারিখে শাপলা কলিতেই একটা গণজোয়ার, গণরায় ও গণবিপ্লব হবে।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের প্রচারে কম দেখা যাচ্ছে, এমন আলোচনার জবাবে জাভেদ রাসিন বলেন, ‘এটা একদমই ভুল কথা। দলীয় জোট তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমাকে সম্পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে...নেতা–কর্মীরা যাঁরা আছেন...তাঁরা কিন্তু ভোর থেকে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত..আমার সাথে মাঠে–ময়দানে হেঁটে বেড়াচ্ছেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘দেরিতে শুরু করলেও আমরা সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। এই সংখ্যা আরও বাড়াতে চাই।’

ঢাকা-৯ আসনে জাভেদ রাসিনের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল প্রতীক) তাসনিম জারা। তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর গত ২৭ ডিসেম্বর তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন।