সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কথা হয় রিনা পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মেয়ে খুলনা শহরে কোচিং করে। ২৬ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। আগে আমরা কখনো রাজশাহীতে যাইনি। ট্রেনের যাত্রাতেই একটু ভালো বোধ হয়। এ জন্য কষ্ট করে সারা রাত এখানে ছিলাম। জানি না টিকিট পাব কি না।’

এ রকম ভোগান্তির পাশাপাশি দীর্ঘ অপেক্ষার পরও খুলনা থেকে রাজশাহীতে যাওয়ার ট্রেনের টিকিট মিলছে না। অনেকেই টিকিট না পেয়ে খালি হাতে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ থেকে ২৭ জুলাই অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষার জন্যই টিকিটের এত বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে খুলনা অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রাজশাহীতে যাবে। আজ সকাল ৮টায় স্টেশন থেকে ২৫ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি শুরু হয়।

সকাল সাড়ে আটটার কিছু পর রিনা পাল ও মেয়ে সুস্মিতা পাল টিকিট কাটতে পেরেছেন। তবে রাজশাহীগামী ট্রেনে টিকিট মেলেনি। খুলনা চিলাহাটি রুটের রূপসা এক্সপ্রেসের টিকিট কাটতে পেরেছেন তাঁরা। সুস্মিতা পাল বলেন, ‘রাজশাহীর ট্রেনের টিকিট তো নেই-ই। রূপসা ট্রেনের নাটোর, শান্তাহার পর্যন্ত কোনো টিকিটও পাইনি। শেষে পার্বতীপুর পর্যন্ত টিকিট কাটতে হয়েছে। পার্বতীপুরের কয়েক স্টেশন আগে নাটোরে নাকি নামতে হবে। সেখান থেকে বাসে যেতে হবে।’

সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত স্টেশনে থেকে দেখা যায়, স্টেশনে টিকিটপ্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড়। প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমে সবাই ঘামছেন। কেউ কেউ হাতপাখায় বাতাস করছেন। তরুণেরা মাঝেমধ্যে হইচই করে উঠছেন। রেলওয়ের পুলিশ সদস্যরা ও রেলওয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা শৃঙ্খলা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর টিকিট পেয়ে খুশি অনেকে। ছোট বোনের জন্য টিকিট কাটতে গতকাল স্টেশনে এসেছিলেন নগরের বয়রা এলাকার সাবিনা ইয়াসমিন। টিকিট পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে সাবিনা বলেন, ‘রাতে এখানে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে টিকিট পেয়েছি।’
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাত্রীরা ২৫ জুলাই রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য কপোতাক্ষ ও রূপসা এক্সপ্রেসের টিকিট কাটতে পারছেন। যদিও রূপসা এক্সপ্রেস নাটোর হয়ে চিলাহাটি যায়। যাত্রীরা উপায় না পেয়ে পোড়াদহ থেকে শুরু করে সৈয়দপুরের মধ্যে যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছেন, টিকিট কেটে নিচ্ছেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে রাজশাহীর মধ্যে আন্তনগর কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি নামের দুটি ট্রেন চলাচল করে। কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ শনিবার আর সাগরদাঁড়ির সোমবার। আর টিকিট না থাকলে অনেক সময় যাত্রীরা চিলাহাটি রুটের ট্রেনে নাটোরে গিয়ে নামে। খুলনা চিলাহাটির মধ্যে সীমান্ত ও রূপসা নামের দুটি ট্রেন চলাচল করে। সীমান্ত সোমবার ও রূপসা বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে। ২৫ জুলাই সোমবার থাকায় সেদিন খুলনা থেকে রাজশাহী ও চিলাহাটির মধ্যে একটি করে ট্রেন চলাচল করবে। এতে ওই দিনের টিকিটের সংকট আরও বেড়েছে।

রেলওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ২৫ জুলাই রাজশাহী ও চিলাহাটির উদ্দেশে একটি করে ট্রেন যাবে। আর ওই দিন খুলনা থেকে ঢাকার চিত্রা এক্সপ্রেসটিও বন্ধ। এই ভোগান্তি দূর করতে ওই দিনের জন্য একটি বিশেষ কোচ চালু করা যেত। অন্তত ট্রেনে দু-একটি কোচ বাড়ানো উচিত ছিল।

টিকিট না পেয়ে একজন অভিভাবক আশরাফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনলাইনে তো ঢোকাই যায় না। খুলনা থেকে রাজশাহীতে যাওয়ার তেমন ভালো পরিবহনব্যবস্থাও নেই। রেলওয়ে তো সেবার পাশাপাশি ব্যবসাও। প্রতিবছর রাজশাহীতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ট্রেনের টিকিটের এ রকম সমস্যা হয়। তাহলে ওই সময়ের কথা বিবেচনা করে স্পেশাল ট্রেন চালালে ক্ষতি কী!

কথা বলতে খুলনা রেলওয়ের স্টেশনমাস্টার মানিক চন্দ্র সরকারের কক্ষে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। দুপুর পর্যন্ত তাঁর মুঠোফোনে কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন