যুদ্ধে যাওয়া ছেলেকে বিদায়ের দৃশ্যটি ইরানের নয়, সিরিয়ার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধের মধ্যে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে যুদ্ধে যাওয়ার আগে এক ইরানি সেনাকে বিদায় জানাচ্ছেন তাঁর বাবা।

ভাইরাল ভিডিওটি রোববার পর্যন্ত ফেসবুকে ১৮ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং এক লাখের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়েছে।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে

যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিওটির সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়ার হামা শহরে সামরিক কুচকাওয়াজের সময় ধারণ করা একটি দৃশ্য।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘Syrian Arab News Agency (SANA)’–এর ইউটিউব চ্যানেলে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর এই ভিডিও পাওয়া যায়। সেই ভিডিওর একটি অংশের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।

লিংক: এখানে

ভিডিওটিতে দেখা যায়, সামরিক কুচকাওয়াজ চলাকালে এক বৃদ্ধ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের আলিঙ্গন করছেন। ইউটিউব ভিডিওর বর্ণনায় বলা হয়, ‘হামায় আনন্দের অশ্রু—সামরিক কুচকাওয়াজের সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদস্যদের আলিঙ্গন করছেন এক বৃদ্ধ ব্যক্তি।’

এ ছাড়া ৮ ডিসেম্বর SANA–এর ফেসবুক পেজেও ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এটি সিরিয়ার ঘটনার ভিডিও হিসেবে প্রচারিত হয়।

লিংক: এখানে, এখানে

ইরানের হামলায় মার্কিন ফাইটার জেট ধ্বংসের এআই ছবি

ইরানের মিসাইলের আঘাতে একটি মার্কিন ফাইটার জেট ধ্বংস হয়েছে—এমন দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

লিংক: এখানে, এখানে

তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, ছবিটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয়। একটি পুরোনো ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদনা করে ভাইরাল ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে স্কেল মডেলিং ওয়েবসাইট Aircraft Resource Center–এ প্রকাশিত একটি ছবির সঙ্গে ভাইরাল ছবির উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যায়। মূল ছবিতে বিমানটির নাকের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার বর্ণনা রয়েছে।

লিংক: এখানে,

মূল ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনায় অস্ত্রব্যবস্থা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হলেও পরে সুস্থ হয়ে পুনরায় উড্ডয়ন কার্যক্রমে ফিরে যান। তবে বিমানটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

ভাইরাল ছবির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, মূল ছবিতে যে সামরিক সদস্যদের উপস্থিতি নেই, সেগুলো ডিজিটালভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে একাধিক এআই শনাক্তকারী টুল দিয়ে পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভাইরাল ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

ইরানের মিসাইল ছোড়ার এআই ভিডিও

ইরানের মিসাইল ছোড়ার দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। একক একটি পোস্ট থেকে ভিডিওটি ৭০ হাজারের বেশি দেখা হয়েছে।

লিংক: এখানে

যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

ভিডিওটি পর্যালোচনা করলে কয়েকটি অসংগতি দেখা যায়। যেমন ভিডিওতে থাকা মানুষ, ক্ষেপণাস্ত্র ও যানবাহনের আকৃতি অস্বাভাবিক এবং গতিবিধি বাস্তবসম্মত নয়। ধোঁয়ার ঘনত্ব, বিস্ফোরণের ধরন ও ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথেও অস্বাভাবিকতা রয়েছে, যা সাধারণত এআই–নির্মিত ভিডিওতে দেখা যায়।

পরে একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

শিক্ষককে মারধরের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের

ক্লাসরুমের ভেতরে এক ছাত্রের শিক্ষককে ঘুষি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩০টির বেশি ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে আপলোড ও শেয়ার করা হয়েছে।

ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশের কুমিল্লার একটি স্কুলের ঘটনা, যেখানে এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ছেলে তার শিক্ষককে মারধর করছে। কোথাও কোথাও আবার দাবি করা হয়েছে, কুমিল্লায় এক হিন্দু স্কুলশিক্ষককে বিএনপির এক নেতার ছেলে মারধর করেছে।

লিংক: এখানে

তবে যাচাইয়ে জানা যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে তর্কাতর্কির জেরে এক ছাত্রের শিক্ষককে ঘুষি দেওয়ার ঘটনার ভিডিও।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বিভিন্ন দৃশ্য নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘taptisamanvya’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একই ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের একটি স্কুলে ঘটে।

লিংক: এখানে

পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম News18-এর ইউটিউব চ্যানেলে ৬ মার্চ প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যার শিরোনাম ছিল, ‘Andhra Pradesh Class 10 Student Punches Teacher After Heated Argument In Classroom’। ওই প্রতিবেদনের ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির দৃশ্যের মিল রয়েছে।

লিংক: এখানে

এ ছাড়া এনডিটিভ, টাইমস নাও, ইন্ডিয়া টুডে-সহ একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও একই ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্ধ্র প্রদেশের বাপাটলা জেলার একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির এক ছাত্র পড়াশোনা নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজিত হয়ে তাকে আক্রমণ করে।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে