ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে আরও পাঁচজন প্রার্থীর করা পৃথক পাঁচটি নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
আবেদনকারী পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে একজন বিএনপির এবং অপর চারজন জামায়াতে ইসলামীর। যে পাঁচ আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো হলো ময়মনসিংহ-১, নারায়ণগঞ্জ-২, নারায়ণগঞ্জ-৩, লালমনিরহাট-১ ও লালমনিরহাট-২।
আবেদনকারী পাঁচ প্রার্থী হলেন ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াছ মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. ইকবাল হোসাইন ভূইয়া, লালমনিরহাট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ারুল ইসলাম রাজু এবং লালমনিরহাট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. ফিরোজ হায়দার।
নির্বাচনসংক্রান্ত আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানির জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। ওই একক বেঞ্চের আজকের কার্যতালিকায় পাঁচটি নির্বাচনী আবেদন মোশন (নতুন মামলা) হিসেবে ছিল। আদালতে জামায়াতে ইসলামীর চার প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মুক্তাদির রহমান।
ময়মনসিংহ-১ আসনে ভোট কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ নির্বাচনী আবেদনটি করেছেন বলে জানান তাঁর আইনজীবী মো. মুক্তাদির রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনী আবেদনে বিজয়ী প্রার্থীর ফলাফল বাতিল চাওয়া হয়েছে। আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট আগামী ১৪ মে শুনানির জন্য দিন রেখেছেন। এই আসনের কেন্দ্রগুলোর ব্যালট পেপার ও সিসিটিভির ফুটেজসহ নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ময়মনসিংহ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ সালমান ওমর ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ ১ লাখ ৭৩৬ ভোট পান।
চারটি আসনের ভোটের ফলাফল নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর চার প্রার্থীর করা পৃথক চারটি নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। এই চার প্রার্থীর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াছ মোল্লা ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইকবাল হোসাইন ভূইয়া ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান।
লালমনিরহাট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ারুল ইসলাম রাজু ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৭২ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাসান রাজীব প্রধান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। লালমনিরহাট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. ফিরোজ হায়দার ১ লাখ ১৭ হাজার ২৫২ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. রোকন উদ্দীন বাবুল ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর এই চার প্রার্থীর আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিজয়ী প্রার্থীর ফলাফল বাতিল ও আবেদনকারীদের বিজয়ী ঘোষণা চাওয়া হয়েছে আবেদনে। আবেদন চারটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। চারটি আসনের ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তিনি হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করতে পারেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি চার প্রার্থীর, ১ মার্চ দুই প্রার্থীর এবং ২ মার্চ চার প্রার্থীর নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।