স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রিমান্ড শেষে অভিনেতা আলভী কারাগারে

জাহের আলভীফাইল ছবি প্রথম আলো

স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় করা মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়াকে (যাহের আলভী) দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আবজাল হোসাইন মৃধা বলেন, আজ যাহের আলভীর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুই দিনের রিমান্ড শেষে যাহের আলভীকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আবদুল মালেক। তিনি আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামির কাছ থেকে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। তদন্ত এখনো চলমান। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।

এর আগে ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন যাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরে ২১ জুন তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ২৪ জুন আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় যাহের আলভী নেপালে ছিলেন। ওই রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

আরও পড়ুন

মামলায় অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় যাহের আলভীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয় মামলায়।

যাহের আলভী ও ইকরা ২০১০ সালে বিয়ে করেন। তাঁদের এক ছেলে রয়েছে। এ মামলায় ৪ জুন যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে জামিন দেন।

আরও পড়ুন