প্রথম আলো: হাতির পালটি কোথা থেকে এসেছে?

আরিফুল হক: হাতিরা চুনতি অভয়ারণ্য থেকে আজিজনগর ও ফাইতংয়ে ঢুকেছে। তারা মাঝেমধ্যে বিচরণভূমি বদল করে। গতকাল সোমবার থেকে ফাইতংয়ের বনাঞ্চলে আছে। সেখান থেকে তারা চুনতি বা হারবাং ফিরবে, নাকি পদুয়া ও টংকাবতী বনাঞ্চলের দিকে যাবে, বলা যাচ্ছে না। এ জন্য এলাকার লোকজনকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

প্রথম আলো: কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে?

আরিফুল হক: মসজিদে ও বৌদ্ধবিহারে মাইকিং করে দলবদ্ধভাবে চলাচল করার এবং রাতে চলাচল না করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জানমালের নিরাপত্তার জন্য জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাতি যাতে লোকালয়ে ঢুকতে না পারে এবং হাতির যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারে বন বিভাগ সেখানে কাজ করছে।

প্রথম আলো: হাতি যদি ঘনবসতিপূর্ণ আজিজনগর ও ফাইতং থেকে সরে না যায়, তখন কী হবে?

আরিফুল হক: আসলে হাতির সঙ্গে সহাবস্থান করার কৌশল মানুষকে শিখতে হবে। হাতি মানুষের ওপর অযথা হামলা করে না। হাতির বিচরণভূমি ও আবাসস্থল দখল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হাতিকে তো টিকে থাকতে হবে। টিকে থাকার সুযোগ করে দিতে হবে। সরকার চায় হাতি ও মানুষ—কারও ক্ষতি না হোক। এখন হাতির আক্রমণে মৃত্যু হলে তিন লাখ, আহত ব্যক্তিদের এক লাখ এবং ফসলের ক্ষতিতে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। মানুষকে অভিযোজন করে নিজে বাঁচতে ও হাতিকে বাঁচাতে হবে। এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। বন বিভাগ সেভাবে কাজ করছে। তারপরও মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যেটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক।