সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, মর্টগেজ ডেটা ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস বা নাগরিকদের জমির বন্ধকসংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে যাচাই করার সুযোগ দেওয়া হবে। এতে বন্ধকি জমি নতুন করে বন্ধক, ক্রয়-বিক্রয় বা নামজারি করার সুযোগ থাকবে না।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি অর্থঋণ আদালতের রায়ের ভিত্তিতে নামজারি সহজীকরণে বন্ধকি ডেটাবেজকে ব্যবহার করা যাবে। এতে ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য তথ্য সংগ্রহ সহজতর হবে এবং ঝুঁকি কমবে। ভূমির এই নতুন ব্যবস্থাপনার ফলে দেশের অর্থনীতিতে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ সময় ভূমি কর্মকর্তাদের নাগরিক সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে বিভাগীয় কমিশনারদের তাগিদ দেন ভূমিমন্ত্রী। ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে ভূমিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিবাজ ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তদন্তপূর্বক যথাযথ বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সভায় ভূমিসচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অনলাইনে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ভূমি উন্নয়ন কর আদায় হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে দুই লাখের বেশি নামজারি আবেদন অনলাইনে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

আবেদনের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৮ হাজার খতিয়ান এবং ৬০ হাজার জমির ম্যাপ ডাক বিভাগের মাধ্যমে সারা দেশে নাগরিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশন, আন্তজেলা-উপজেলা সীমানা বিরোধ, ভূমি অফিস সংস্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জলমহাল ও বালুমহালের ইজারা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন বিভাগীয় কমিশনাররা।

সরকারি কর্মচারীদের কাছে চিংড়ি মহাল ইজারা নয়

এদিন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী। এতে একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এবং চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা চিংড়ি মহাল যেন ইজারা নিতে না পারেন, সেই ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সভায় বিভিন্ন জেলার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চিংড়ি মহালের নতুন ইজারার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ চিংড়ি মহাল ইজারা নিয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৫৯৬টি চিংড়ি মহাল আছে, যা কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের উৎস।