মামলার আসামিরা হলেন রামদী ইউনিয়নের মুজরাই মধ্যপাড়ার রবি মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (১৯), আলম মিয়া (৪৫), আলমের ছেলে রিশাদ মিয়া (১৮) ও সালাম মিয়ার ছেলে পারভেজ মিয়া (১৮)।

নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, হাসিনা বেগম কুলিয়ারচর উপজেলার বীর কাশিম নগর ফেদাউল্লাহ উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও আবু বক্করের প্রতিবেশী। হাসিনা বেগম কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। গত মঙ্গলবার হাসিনা বেগমের কয়েকজন ছাত্রছাত্রী তাঁকে দেখতে বাড়িতে আসে। সেখান থেকে ফেরার পথে বাবুল, রিশাদ, পারভেজসহ আরও কয়েকজন তরুণ ওই ছাত্র–ছাত্রীদের পথরোধ করে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর কথা বলেন। ওই ছাত্রছাত্রীরা কেন এই গ্রামে এসেছে এবং তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, এসব বিষয় প্রশ্ন করে ওই তরুণেরা তাদের উত্ত্যক্ত করেন। এভাবে ওই তরুণেরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পথ আটকে রাখেন।

পরে ওই শিক্ষার্থীরা ঘটনাটি হাসিনা বেগমকে জানায়। ঘটনার দুদিন পর গত বৃহস্পতিবার হাসিনা বিষয়টি প্রতিবেশী আবু বক্করের স্ত্রী আনিছাকে জানান। ওই দিনই আনিছা অভিযুক্ত তরুণদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের অভিভাকের কাছে অভিযোগ জানিয়ে এ বিষয়ের প্রতিকার চান।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, উত্ত্যক্তের ঘটনায় আনিছা নালিশ দেওয়ায় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হন। পরে ওই দিন রাত আটটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দলবব্ধ হয়ে আনিছার বাড়িতে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। ওই সময় আনিছাকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁরা আবু বক্করকে ঘর থেকে টেনে বের করে মারধর শুরু করেন। এতে আবু বক্কর গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশিরা আবু বক্করকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আবু বক্করের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে আবু বক্করের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন রাত ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনে অন্তত চারটি বসতঘর পুড়ে গেছে।

আবু বক্করের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সেলিনা বেগম বলেন, বখাটেদের একটাই কথা ছিল, ওই দিনের ঘটনা আনিছা কেন অভিভাবকদের জানালেন। আনিছাকে তাঁরা শায়েস্তা করতে এসেছিলেন। আনিছাকে না পেয়ে তাঁরা আবু বক্করকে বেধরক মারধর করেন।

আনিছা বলেন, ‘অন্য গ্রামের ছেলে–মেয়েরা আমাদের গ্রামে এসেছে। তারা আমাদের গ্রাম থেকে বখাটেদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছে, এটা গ্রামের ইজ্জতের ব্যাপার। মানতে পারিনি। সেই কারণে বখাটেদের বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’

আবু বক্করের মৃত্যুর পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গা ঢাকা দিয়েছেন। তাই এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত রিফাতের বোন রক্সি বেগম বলেন, আনিছার মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পর পারিবারিকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার করা হয়। তবে প্রতিপক্ষরা ওই দিন আগুন দিয়ে শুধু ঘরবাড়িই পুড়িয়ে দেননি, একই সঙ্গে তাঁদের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তুফা জানান, নিহত আবু বক্করের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মূলত উত্ত্যক্তের ইস্যু নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান চলছে।