চাঁদাবাজি নিয়ে ডাকসুর নেতারা ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তদন্তে কমিটি গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করেন ডাকসুর নেতারা। সেখানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে কিছু ভিডিও চিত্র ও স্ক্রিনশট প্রদর্শন করা হয়। এ সময় দাবি করা হয়, এসব ‘ছাত্রদলের চাঁদাবাজির তথ্য-প্রমাণ’। ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা। অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ডাকসুর কয়েকজন নেতা ও একদল শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। সেখানে ডাকসু নেতারা দাবি করেন, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।

বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেয় ছাত্রদল। রোববার ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডাকসু নেতারা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ভিত্তিহীন কথা বলছেন। তাঁরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান।

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করেন ডাকসুর নেতারা। সেখানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে কিছু ভিডিও চিত্র ও স্ক্রিনশট প্রদর্শন করা হয়। এ সময় দাবি করা হয়, এগুলো ‘ছাত্রদলের চাঁদাবাজির তথ্য-প্রমাণ’।

এর আগে শনিবার মধ্যরাতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, ছাত্রদলের কর্মী সাইদ হাসান সাদ একটি ভ্যান ভাঙচুর করছেন এবং পরে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাইদ ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন, ঘটনাটি প্রায় দেড় মাস আগের।

সাইদ বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উল্টো ডাকসু নেতা সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে নতুন একটি সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ তোলেন তিনি। নির্বাচনের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটি সামনে আনা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রজেক্টরে যা দেখালেন ডাকসু নেতারা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরতে ডাকসু নেতারা প্রজেক্টরের মাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও দেখান। ভিডিওগুলোতে কিছু স্ক্রিনশট দেখানো হয়। এ ছাড়া এক দোকানদারের সঙ্গে ডাকসু নেতা সর্বমিত্র চাকমার কথোপকথনের অংশ তুলে ধরা হয়। সেখানে ওই দোকানদার বিভিন্ন অভিযোগ করেন।
দোকানদার দাবি করেন, সূর্য সেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কাউসার মাঝেমধ্যে বিল কম দিতেন এবং চাপের মুখে তাঁর গ্রুপকে প্রায় তিন হাজার টাকার কাচ্চি খাওয়াতে হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দোকানদার সরাসরি কাউসারকে ফোন করে টাকার বিষয়টি জানালে তিনি তাতে সম্মতি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহিনুর রহমান, সর্বমিত্র চাকমা প্রমুখ।

ছাত্রদলের প্রতিবাদ, প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন

চাঁদাবাজির অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজির অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ডাকসু নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ছাত্রদলের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন অধ্যাপক মো. মিরাজ কোবাদ চৌধুরী (সহকারী প্রক্টর)। সদস্যরা হলেন এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী (সহকারী প্রক্টর), অধ্যাপক শান্টু বড়ুয়া (সহকারী প্রক্টর) এবং সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন ফাতেমা বিনতে মুস্তফা (এস্টেট ম্যানেজার, ভারপ্রাপ্ত)। কমিটিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের স্বাক্ষর করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘৫ আগস্টের পর থেকে আজ অবধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নেতা-কর্মীর নামে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আনার নৈতিক অবস্থান না থাকলেও গত রাতে প্রায় দেড় মাস আগে গৃহীত সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের একটি ভিডিওকে কাটছাঁট করে অনলাইনে ছড়িয়ে এ রকম ঘৃণ্য অপবাদ দিয়ে মব সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।’

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য দুটি দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। দাবিগুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দোকানপাট পরিচালনার নিয়মনীতির বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে এবং তা যথাযথভাবে প্রচার করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া অভিযোগ অনুসারে, চাঁদাবাজি, দোকান ভাঙচুর ও উচ্ছেদের সিন্ডিকেটের সঙ্গে ডাকসু প্রতিনিধিদের কিংবা প্রশাসনের কর্মকর্তা/কর্মচারী যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মধ্যরাতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ডাকসুর কয়েকজন নেতাসহ একদল শিক্ষার্থী শনিবার মধ্যরাতে ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন। তাঁরা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ভাসমান দোকান থেকে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যের কাছে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাত দেড়টার দিকে ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা ও আরেক দল শিক্ষার্থী ডাকসু নেতাদের বিরুদ্ধে রাজু ভাস্কর্যের সামনে পাল্টা বিক্ষোভ করেন।