ভাষার মাসের প্রথম দিনই বসছে জাতীয় কবিতা উৎসব
‘সংস্কৃতি-বিরোধী আস্ফালন রুখে দেবে কবিতা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দুই দিনের জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু হচ্ছে ভাষার মাসের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি। তবে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার চত্বরের পরিবর্তে উৎসব আয়োজন করা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
আজ রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জানানো হয়, এবার ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গণমানুষের সংস্কৃতিকে সামনে নিয়ে আসার অভিপ্রায়ে ১৯৮৭ সালে জাতীয় কবিতা উৎসবের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
রেজাউদ্দিন স্টালিন আরও বলেন, ‘দেশে স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িক শক্তি ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই কবিরা ছিলেন সোচ্চার। মাঝপথে কবিতা পরিষদের নেতৃত্বে কিছুটা আদর্শিক বিচ্যুতি ঘটে। একশ্রেণির কবিরা কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট শাসকদের স্তাবক, দলদাসে পরিণত হন। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় কবিতা পরিষদ আবার গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একাত্ম হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।’
সভাপতির লিখিত বক্তব্যে মোহন রায়হান বলেন, এটি শুধু কবিতা পাঠের মঞ্চ নয়, এটি বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক জীবন্ত সংগ্রাম। বিগত চার দশকে কবিতা উৎসব দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি সুখ্যাত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
কবিতা উৎসবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কবি, লেখক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি বিদেশের অনেক খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকেরা অংশগ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে এটি আজ একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ উৎসব হয়ে উঠেছে।
মোহন রায়হান বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, গত ১৭ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আড়ালে লুকিয়ে থাকা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার পরাজিত, খুনি, ধর্ষক, অগ্নিসংযোগকারী ও অন্ধকারের অশুভ শক্তি এবং জুলাইয়ের পতিত ফ্যাসিস্টদের দোসররা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে এক ভয়াবহ ভীতির সংস্কৃতি চালু করেছে। দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের কৃষ্ণগহ্বরে ঠেলে দিতে চাচ্ছে।’
এ পরিস্থিতিতে চলতি বছর জাতীয় কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মোহন রায়হান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়কণ্ঠে জানাতে চাই, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ কখনোই এ পরাজিত দানবদের হাতে তুলে দিতে দেব না।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উৎসবের জন্য তাদের টিএসসি-সংলগ্ন পাঠাগার চত্বর ব্যবহার করতে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এতে বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উৎসব করতে হচ্ছে।
এবারের উৎসব উদ্বোধন করবেন জুলাইয়ে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফরুকী।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও ফিলিস্তিনের কবিদের সঙ্গে পরিষদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। এসব দেশের কবিরা এবারের উৎসবে অংশ নেবেন বলেও আয়োজকেরা আশা করছেন। দুই দিনের উৎসবে কবিতা পাঠ ছাড়া আরও থাকবে সেমিনার, আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা।
১ জানুয়ারি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সুইমিংপুল চত্বরে জাতীয় কবিতা উৎসবের দপ্তর খোলা হয়েছে। অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে নাম নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধন ফি ২০০ টাকা। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দপ্তর খোলা থাকবে। http://npc.com/utsob26 অথবা http://jatiyokobitaparishad.com/utsob26 লিংকে নিবন্ধন করা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবি মতিন বৈরাগী, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, কবি অনামিকা হক লিলি ও কবি শাহিন চৌধুরী।