আজ রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) এক আলোচনা সভায় মঞ্জুলি কাজী এ কথা বলেন। ‘বিশ্ব সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত স্মরণ’ দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ও রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন। তাঁরা কাগজের ফুল ছবির শুটিং স্পট দেখে ঢাকায় ফিরছিলেন।

আজকের অনুষ্ঠানে মঞ্জুলি কাজী বলেন, যেসব মালিক ও শ্রমিক সমিতি আছে তারা দুর্ঘটনার জন্য বড় অংশে দায়ী। তারা শুধু গাড়ির চাবি দেয়, সারা দিনের পয়সা নিয়ে নেয়। আর কিছুই তারা দেখে না। চালক ২৪ ঘণ্টা চালাল, নাকি কয় ঘণ্টা, তারা খেয়াল করে না।

মঞ্জুলি কাজী বলেন, ‘এই জিনিসটা আমরা বদলাতে চেয়েছিলাম। এ জন্য মামলা করি। কিন্তু দুটি মামলার একটিতে আমরা জিতলাম, আরেকটা চলমান। অবাক লাগে, যেখানে হাইকোর্টে একটি ক্ষতিপূরণের মামলা চলছে, সেখানে স্বার্থান্বেষী মানুষেরা বুয়েটের শিক্ষককে দিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র করেছে সোশ্যাল ক্রসফায়ার নামে। এর দায়দায়িত্ব দিয়েছে আমাদের কাঁধে।’

মিশুক মুনীরের স্ত্রী অভিযোগ করেন, প্রামাণ্যচিত্রে ওই শিক্ষক একবারও ভুক্তভোগী পরিবারকে জিজ্ঞেস করেননি। গাড়িতে যাঁরা ছিলেন, এখনো বেঁচে আছেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার নেননি। আরিচা ঘাটের ওদিকে কোনো ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা ছিল না। নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে তিনি রায় দিয়ে দিলেন যে এটা মাইক্রোবাসের চালকের দোষ। কারণ, চুয়াডাঙ্গার গাড়িটি হচ্ছে মালিক সমিতির একজনের গাড়ি।

দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হয়। সেখানে মন্ত্রী, সচিব ও মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে মঞ্জুলি কাজী বলেন, ‘সেখানে সবাই একবাক্যে বলেছেন, এটা (প্রামাণ্যচিত্র) ঠিক হয়েছে। এটা হাইকোর্টে দেওয়া হবে। একটা মামলা চলছে, এটা তো মামলাকে প্রভাবিত করবে। দেশের মন্ত্রী, সচিবরা শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখেন।’

মঞ্জুলি কাজী বলেন, ‘আজকে যদি আমরা এই ক্ষতিপূরণের মামলায় জিতে যাই। আমার আর ক্যাথরিন মাসুদের কি দরকার আছে টাকার? দরকার নাই। কারণ, আমরা নিজেরাই উপার্জন করতে পারি। কিন্তু দরকার শিউলি বেগমদের, যাঁর পা হারিয়েছে, যাঁর হাত হারিয়েছে। যাঁরা একদমই উপার্জন করতে পারেন না, খেতে পাচ্ছেন না।’

সরকার দুর্ঘটনার শিকার মানুষদের পাশে নেই বলে মনে করেন মঞ্জুলি কাজী। বলেন, ‘এ জন্য দরকার আইন। সড়ক আইন যেগুলো আছে, তা বাস্তবায়ন করলে দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। কিন্তু সড়ক আইন তো আমরা বাস্তবায়ন করতেই পারছি না। বাস্তবায়ন কেন হচ্ছে না? কারণ, বাস্তবায়ন করলে কিছু মানুষের ক্ষতি হবে। যারা সরকারের মধ্যেই আছে, যারা সড়ককে পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে।’