৩ মাস পর মৃত্যুনিবন্ধন আবেদন চালু

জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশটছবি: ওয়েবসাইট থেকে

তিন মাস বন্ধ থাকার পর মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন জনসাধারণের জন্য গত সোমবার অনলাইনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন জনসাধারণের জন্য বন্ধ ছিল। কারও মৃত্যুনিবন্ধন করতে হলে মৃত ব্যক্তির পক্ষে কেউ অনলাইনে নিজে আবেদন করতে পারছিলেন না। নিবন্ধন কার্যালয়ে গিয়ে সহকারী নিবন্ধকদের সহায়তা নিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হচ্ছিল। এ নিয়ে ‘অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন নেওয়া ৩ মাস ধরে বন্ধ’ শিরোনামে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিস্টেমে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার ‘রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন’ এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এ তথ্য জানিয়েছে।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন সিস্টেমের (বিডিআরআইএস) অধিকতর নিরাপত্তার বাড়ানোর জন্য গত ২১ নভেম্বর থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুধু নিবন্ধন কার্যালয় থেকে মৃত্যুনিবন্ধন আবেদন কার্যক্রম চলমান ছিল। পাবলিক সাইট থেকে অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের সহকারীর (অনুমোদিত ব্যবহারকারী) ইউজার আইডি থেকে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন করতে হতো। অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধন আবেদন কার্যক্রম কখনোই বন্ধ (জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল না) ছিল না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের নভেম্বরে ৮৯ হাজার ৯৩৭টি, ডিসেম্বরে ৮২ হাজার ১৯৮টি, এ বছরের জানুয়ারিতে ৮১ হাজার ১৬টি ও ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৩২টি মৃত্যুনিবন্ধন হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে এ বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ হাজার ২০৩টি মৃত্যুনিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করা হয়েছে ও ১১ হাজার ৪১০টি মৃত্যুনিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জন্ম ও মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে কোনো ফি লাগে না। ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে করলে ২৫ টাকা এবং ৫ বছর পর করালে ৫০ টাকা ফি লাগে। তথ্য সংশোধনের জন্য ১০০ টাকা লাগে। অনলাইনে আবেদন করার পর তা নিবন্ধনের জন্য নিবন্ধকের কাছে জমা দিতে হয়। নিবন্ধন হওয়ার পর সনদ পাওয়া যায়। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা ইউপি সচিব সহকারী নিবন্ধক আর ইউপি চেয়ারম্যান নিবন্ধক। সিটি করপোরেশন এলাকায় আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়।