দেশে নজরুলের মতো স্বেচ্ছায় রক্তদাতা আরও অনেকে আছেন। মানুষের মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পেশাদারদের চেয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংখ্যা এখন বেশি।

বেসরকারি রক্তদাতা সংগঠনগুলো বলছে, দেশে রক্তের যে চাহিদা, তা পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না। স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের যে সংখ্যা, তা চাহিদার তুলনায় কম। ফলে রক্তের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদানে আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ ২ নভেম্বর পালিত হচ্ছে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস।

দেশের সবচেয়ে পুরোনো স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন সন্ধানী। তাদের হিসাবে, দেশে বছরে ছয় লাখ ব্যাগের মতো রক্তের চাহিদা রয়েছে। যার মধ্যে ১২ শতাংশ পূরণ করছেন বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত স্বেচ্ছায় রক্তদাতারা। প্রায় ৬০ শতাংশের মতো আসে পেশাদার রক্তদাতাদের কাছ থেকে। বাকিটা স্বজন, বন্ধু ও পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে দেওয়া হয়। রক্তদাতাদের বেশির ভাগ তরুণ ও শিক্ষার্থী।

সন্ধানীর কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি মো. হাসিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটাতে হবে। নয়তো শিগগিরই রক্তের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হবে না। জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোতে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন অ্যান্ড থ্যালাসেমিয়া ম্যানেজমেন্ট শাখার ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার আতাউল করিম বলছেন, দেশে এখন স্বেচ্ছায় রক্তদানের পরিমাণ বেশি। দেশে পেশাদার রক্তদাতা বা টাকার বিনিময়ে রক্ত দেওয়া কমে গেছে।

আতাউল করিম বলেন, ‘স্বেচ্ছায় বলতে এখানে হয়তো বোঝানো হয়েছে যে তাৎক্ষণিক কোনো প্রয়োজনে আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে রক্তদান করা। কিন্তু আত্মীয়দের থেকে রক্ত নেওয়ার চেয়ে দূরের কোনো রক্তদাতার কাছ থেকে রক্ত নেওয়াকে আমরা বেশি উৎসাহ দিই। কারণ, এতে জেনেটিক কিছু ব্যাপার থাকে।’

আতাউল করিম আরও বলেন, যিনি রক্ত দেবেন, তিনি বিশ্বস্ত কোনো ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দেবেন। দাতার জানার দরকার নেই, তার রক্ত কার কাছে যাচ্ছে। ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দিলে তা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করা যায়।

দেশের রক্তদান পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে উল্লেখ করে আতাউল করিম বলেন, রক্তের অভাবে কেউ মারা গেছে, এখন আর তা শোনা যায় না। এখন রক্তের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিভেদ করা হচ্ছে। আগুনে দগ্ধ রোগীর জন্য এক রকম, আবার ডেঙ্গু রোগীর জন্য আরেক রকম রক্তের উপকরণের প্রয়োজন হয়। এটি এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন অ্যান্ড থ্যালাসেমিয়া ম্যানেজমেন্ট শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন সাড়ে ৯ লাখ ব্যাগ রক্ত পরিসঞ্চালন হয়। এর বিপরীতে চাহিদা ১০ লাখ। দেশে সরকারিভাবে ব্লাড ব্যাংক আছে ২০৬ এবং বেসরকারি ১৭২টি।

শিক্ষার্থী রক্তদাতাদের অন্যতম বড় সংগঠন বাঁধন। এর সভাপতি মো. নাহিদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বাঁধন ২৫ বছরে ১০ লাখ মানুষকে রক্ত দিয়েছে। আর ২১ লাখ মানুষকে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে দিয়েছে। বছরে ৭৫ হাজার ব্যাগ রক্তের চাহিদা পায় বাঁধন। যার ৯০ শতাংশ তারা পূরণ করতে পারে।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের চার লাখ রক্তদাতা আছেন। তাঁরা দিনে ৪৫০ থেকে ৫৫০ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করেন। কোয়ান্টামের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির সমন্বয়ক শেখ মোহাম্মদ ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর তাঁদের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার ব্যাগ রক্তের চাহিদা ছিল। যার মধ্যে ৯৫ হাজার ব্যাগ সরবরাহ করতে পেরেছেন।